ইসরাইল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি চুক্তিতে নজর বিশ্বজুড়ে
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: পৌঁছে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের ইসরাইল সফরে রয়েছেন তিনি। তেলআবিব ও দিল্লির মধ্যে নতুন বেশ কিছু চুক্তি হতে চলেছে। ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন বন্ধুর সফর নিয়ে তিনি কতটা উচ্ছ্বসিত।
চার বছর ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালীতে কড়া নাড়ছে মার্কিন সেনা উপস্থিতি। ইসরাইল সরকার চাইছে দ্রুত ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তন আনতে। ইতিমধ্যে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যারিফ যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। অস্থির এই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব।
দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য—বহুমাত্রিক সহযোগিতার চুক্তি হতে চলেছে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে। ইসরাইলের পার্লামেন্টে ভারতের কণ্ঠ হয়ে উঠতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণ।
দীর্ঘদিন ধরে গাজায় এক প্রকার যুদ্ধ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। গাজায় হাজার মানুষের মৃত্যুতে বিশ্বের নানা প্রান্তে সমালোচিত হচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজায় শান্তি ফেরাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্যোগ নিয়ে আরব বিশ্বের বহু দেশকে সামিল করে গাজা শান্তি চুক্তিতে।
সেই চুক্তিতে সই করেছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানও। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের গাজা শান্তি চুক্তিতে সামিল হয়নি রাশিয়া, চিন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
পারমাণবিক বোমা তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ। সেই বাকযুদ্ধ যেকোন সময় যুদ্ধে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ সত্যিই যদি হয়, তাহলে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল পিছিয়ে থাকবে না।
তার মধ্যেই ইসরাইলে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইসরাইলের পার্লামেন্টে ভাষণও দিয়েছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহ একাধিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তার মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের চুক্তি নিয়ে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। কারণ এবার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন সংযোজন হতে পারে প্রযুক্তি হস্তান্তর।
ইসরাইল শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই অগ্রগণ্য নয়, তারা তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। কৃত্রিম মেধা (Artificial Intelligence) নিয়ে সারা বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র উত্তাল।
সদ্য দিল্লিতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্মেলন শেষ করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ভারত এআই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে চায়।
সারা বিশ্বের সফটওয়্যার তৈরির অন্যতম প্রধান দেশ ভারত। অন্যদিকে কৃত্রিম মেধার দ্রুত উত্থানে প্রতিদিন তথ্য ও প্রযুক্তি শিল্পের কোম্পানিগুলির শেয়ারে ধস নামছে শেয়ার বাজারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিগুলির দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভারতের বন্ধু ও শত্রু দেশগুলি।
ইতিমধ্যে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে মোদীর এই সফর ঘিরে নানা আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।
কাশ্মীরের পাহেলগাঁয়ে পাক জঙ্গিদের হামলার পর ভারত শুরু করেছিল অপারেশন সিঁন্দুর। সেই অপারেশন এখনও খাতায় কলমে বন্ধ হয়নি।
ইসরাইল ও ভারতের মধ্যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ‘আইরন ডোম’ হস্তান্তর হয় কিনা, তার দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন সেনা বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভারতের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে যদি ইসরাইলি আইরন ডোমও ভারতের হাতে আসে, তাহলে পাকিস্তানের কী হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমে।

