গনগনিতে উন্নয়নের ছোঁয়া না প্রকৃতির ক্ষয়? শিলাবতীর তীরে প্রশ্নের মুখে ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’

NEWS INDIA বাংলা
0

 শিলাবতীর পাড়ে গনগনি—প্রকৃতির শিল্পে আধুনিকতার আঘাত নিয়ে উদ্বেগ

Gongoni Shilabati River Canyon West Bengal

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:শিলাবতী নদীর তীরে গড়বেতার কাছে গনগনি প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি। লাল ল্যাটেরাইট মাটির দীর্ঘ ক্ষয়ের ফলে তৈরি হওয়া এই গিরিখাতকে অনেকেই ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে চেনেন।

খাঁজকাটা পাহাড়, খাড়া ঢাল, সরু খাদ আর অদ্ভুত গঠনশৈলী—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নদীর স্রোত ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ছোঁয়ায় এখানে তৈরি হয়েছে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। লাল মাটির গায়ে যখন সূর্যাস্তের আলো পড়ে, তখন প্রকৃতির রঙের ক্যানভাস যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

বহু বছর ধরে পর্যটকদের টেনে এনেছে এই সৌন্দর্য। তারা এখানে এসেছেন নিসর্গের শান্তি উপভোগ করতে, মাটির গন্ধ অনুভব করতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ‘উন্নয়ন’ ও ‘পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা’র নামে যে নির্মাণকাজ চলছে, তা অনেকের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

‘উন্নয়ন’-এর নামে কংক্রিটের পথ, টাইলস, স্থায়ী কাঠামো এই প্রাকৃতিক স্বকীয়তাকে ঢেকে দিচ্ছে। সংবেদনশীল মাটির গঠন ভারী নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বদলে যেতে পারে নদীপাড়ের স্বাভাবিক ভারসাম্যও।

উন্নয়ন যদি সংরক্ষণের বদলে প্রকৃতির শ্বাসরোধ করে, তবে তা অগ্রগতি নয়—অপচয়।

গনগনির প্রকৃত আকর্ষণ তার কৃত্রিম সাজে নয়, তার স্বাভাবিক রূপে। তাই প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ—যেখানে পর্যটন ও সংরক্ষণ পাশাপাশি হাঁটবে।

নইলে এই ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ একদিন কেবল স্মৃতিতেই থেকে যাবে।

প্রকৃতি নিজেই এখানে প্রধান আকর্ষণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি যদি কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তবে সেই দায় আমাদের সবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!