শান্ত মণিপুরে নতুন ভোরের আশা: রাষ্ট্রপতি শাসন সরিয়ে মসনদে ইউমনাম খেমচাঁদ সিং
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মণিপুরের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল। প্রায় এক বছর পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং পুনরায় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরে এল। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ইম্ফলের লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। রাজ্যপাল অজয় ভাল্লা তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান।
মণিপুরের মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের কথা মাথায় রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এবার এক বিশেষ ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ ফর্মুলা গ্রহণ করেছে। শান্তি ফেরানোর লক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং (মেইতেই সম্প্রদায়) এর পাশাপাশি দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীকেও নিয়োগ করা হয়েছে।
- নেমচা কিপগেন: কুকি সম্প্রদায় থেকে প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী (তিনি দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি শপথ নেন)।
- লোসি দিখো: নাগা সম্প্রদায় থেকে দ্বিতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা গোবিন্দাস কন্থুজাম-কে।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুর ভয়াবহ জাতিগত হিংসার আগুনে পুড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিং। এর পরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল এবং বিধানসভাকে ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’-এ রাখা হয়েছিল। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সেই রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করা হয়।
শপথ গ্রহণের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যের ৩৬টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। হিংসায় ঘরছাড়া লক্ষাধিক মানুষের পুনর্বাসন ও উন্নয়নই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

