লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে ‘যুবসাথী’: ভোটব্যাংক অটুট রাখতে মমতার জনমোহিনী বাজেট, লক্ষ্য কি শুধুই বিধানসভা ২০২৬?

NEWS INDIA বাংলা
0

মমতার মাস্টারস্ট্রোক বাজেট ২০২৬!
 

নিজস্ব প্রিতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন শিয়রে। আর সেই মহারণের আগে নিজেদের ঘর গোছাতে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং প্রতিটি স্তরের ভোটারদের জন্য ‘উপহার’ সাজিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি থেকে বেকার যুবকদের জন্য নতুন প্রকল্প—সবটাই কি ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলার কৌশল? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। 

মহিলা ও যুবসমাজের মন জয়ই পাখির চোখ: ২০২১-এর নির্বাচনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ছিল মমতার ব্রহ্মাস্ত্র। এবারের বাজেটে সেই ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধু মহিলারা নন, এবারের লক্ষ্য রাজ্যের যুবসমাজ। ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকারদের মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা আসলে তৃণমূল স্তরে তরুণ ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার একটি বড় চাল। গিগ কর্মী (যেমন জোমাটো, সুইগি, আমাজন ডেলিভারি বয়)-দের স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনাও এই কৌশলেরই অংশ।

সরকারি কর্মচারী ও ডিএ জট: দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ আন্দোলনের আবহে সরকারি কর্মচারীদের ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা এক প্রকার ‘ক্ষত প্রলেপ’ দেওয়ার চেষ্টা। যদিও আজই সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। ফলে বাজেটের এই ৪ শতাংশ বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের কতটা সন্তুষ্ট করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে পেনশনারদের জন্য হেলথ স্কিমের সুবিধা বাড়িয়ে প্রবীণ ভোটারদের মন রাখার চেষ্টাও ছিল স্পষ্ট।

আশা-সিভিক-আইসিডিএস: তৃণমূল স্তরে জনভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা: আশা কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন ১০০০ টাকা বৃদ্ধি এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মহিলা কর্মীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল সরকার। চা বাগান থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকায় এই বিশাল কর্মী বাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখা ভোটবাক্সে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’কে হাতিয়ার করে মমতা সরকার প্রমাণ করতে চাইল যে কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য নিজের ক্ষমতায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। ক্লাব এবং পুজো কমিটির অনুদানের লাভ আগে যেমন তৃণমূল ঘরে তুলেছিল, ‘যুবসাথী’ এবং ‘বর্ধিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ঠিক একইভাবে ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের পালে হাওয়া কাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি বাজেট নয়, বরং বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘ভিশন ডকুমেন্ট’। এখন দেখার, এই বিপুল খয়রাতি ও আর্থিক স্বস্তির বার্তা শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রতিফলিত হয়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!