নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মাঘের শেষ বেলায় এসে বঙ্গবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শীত কি তবে পাকাপাকি বিদায় নিল? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর এবং কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, রাজ্যে শীতের তীব্রতা এখন অনেকটাই স্তিমিত। উত্তর দিক থেকে আসা শীতল হাওয়ার দাপট কমতে শুরু করেছে এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার উপস্থিতির কারণে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। আজ এবং আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে মূলত শুষ্ক ও পরিষ্কার আবহাওয়া বজায় থাকবে।
কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:
তাপমাত্রা: কলকাতার আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে।
কুয়াশার দাপট: ভোরে এবং ভোরের দিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে বিশেষ করে বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা গেছে। দৃশ্যমানতা ৮০০ থেকে ১০০০ মিটারের মধ্যে ছিল।
এক নজরে আজকের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান
জেলা/শহর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আর্দ্রতা পূর্বাভাস
কলকাতা ২৮.৪°C ১৬.৬°C ৪৬% পরিষ্কার আকাশ
আসানসোল ২৭.৫°C ১৪.২°C ৪২% শুষ্ক আবহাওয়া
দার্জিলিং ১৫.৩°C ৬.৪°C ৬০% আংশিক কুয়াশা
শিলিগুড়ি ২৮.৯°C ১২.৬°C ৫২% রৌদ্রোজ্জ্বল
হলদিয়া ২৭.২°C ১৭.৫°C ৪৯% রোদ ঝলমলে
বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে সড়ক পথে সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে শীতের কামড় দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে বেশি থাকলেও সেখানেও পারদ বাড়তে শুরু করেছে।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে 'হলুদ সতর্কতা' জারি করেছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে নেমে যেতে পারে।
পর্যটন ও আবহাওয়া: দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও রোদ ঝলমলে আকাশ পর্যটকদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরি করেছে। শিলিগুড়ি ও মালদহে দিনের বেলা রোদের তেজ বাড়ছে, যা বসন্তের আগাম সংকেত দিচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এই শুষ্ক আবহাওয়া রবি শস্য এবং আলু চাষের জন্য মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির অভাব থাকায় জমিতে পরিমিত সেচ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তাপমাত্রার এই ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা-গরম থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আবহাওয়াবিদদের শেষ বার্তা:
"এখনই লেপ-কম্বল আলমারিতে তুলে রাখার সময় আসেনি," এমনটাই জানাচ্ছেন প্রবীণ আবহাওয়াবিদরা। যদিও বড় কোনো পারদ পতনের সম্ভাবনা কম, তবে সপ্তাহের শেষে সপ্তাহান্তে (Weekend) উত্তর দিক থেকে আসা হালকা উত্তুরে হাওয়ার জেরে সকালের দিকে সামান্য শিরশিরানি বজায় থাকতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে রাজ্যে গরমের দাপট বাড়তে শুরু করবে এবং মার্চে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসও দিচ্ছে কিছু বেসরকারি সংস্থা।

