মায়ানমার কেন্দ্রিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও বাংলাদেশ, আতঙ্কে রাত কাটাল সাধারণ মানুষ

NEWS INDIA বাংলা
0

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মঙ্গলবার রাত ৯:০৭ মিনিট নাগাদ এক শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে ওঠে কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.০। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে সাধারণ বাড়ি—সব জায়গার মানুষই আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মায়ানমার কেন্দ্রিক ভূমিকম্পের প্রভাবে কলকাতা ও বাংলাদেশে আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী: ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মায়ানমারের পার্বত্য অঞ্চল। ভূগর্ভের বেশ গভীরে এই চ্যুতি বা 'ফল্ট লাইন' সক্রিয় হওয়ায় কম্পন বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

 মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (মিজোরাম, মণিপুর), পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।

স্থায়িত্ব: উৎসস্থলে কম্পন দীর্ঘস্থায়ী হলেও কলকাতায় তা প্রায় ৫ থেকে ৮ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।

এখনও পর্যন্ত বড় কোনো জীবনহানি বা পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরনো অনেক বাড়িতে ফাটল ধরার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতা মেট্রো রেল এবং বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে খতিয়ে দেখা হলেও কোনো বড় বিঘ্ন ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটটি প্রতি বছর উত্তর-পূর্ব দিকে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ধাবিত হচ্ছে। মায়ানমার এবং সংলগ্ন হিমালয় পাদদেশ অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ (Zone V এবং Zone IV)। মায়ানমারের এই চ্যুতিটি সক্রিয় থাকায় কলকাতা ও বাংলাদেশের মতো পলল সমভূমি এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়, যাকে 'সিজমিক ওয়েভ' বা ভূকম্পীয় তরঙ্গ বলা হয়।

সতর্কবার্তা: ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা 'আফটার শক' (Aftershock) বা ছোট ছোট কম্পনের সম্ভাবনা থাকে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই শ্রেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!