নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক : ফেব্রুয়ারি মাস মানেই শীত-বসন্তের এক সন্ধিক্ষণ। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার। ক্যালেন্ডারের পাতায় মাঘ মাস শেষ হতে চললেও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এখনো শীতের আমেজ পুরোপুরি মুছে যায়নি। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—শীত কি এবার বিদায় নিল?
কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আজ ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশ পরিষ্কার হবে এবং রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া বজায় থাকবে। কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। হাওয়া অফিসের মতে, আগামী ২-৩ দিনে তাপমাত্রার খুব বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও ভোরের দিকে মনোরম ঠান্ডা বজায় থাকবে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, এবং ঝাড়গ্রামে তাপমাত্রা কলকাতার তুলনায় ২-৩ ডিগ্রি কম থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে শীতের দাপট দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে কনকনে ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশার দাপট চলছে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচটি জেলায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সিকিম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকলেও সমতলে আপাতত বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে একটি উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে। যদিও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও আর্দ্রতা বাড়ার কারণে দুপুরের দিকে সামান্য অস্বস্তি হতে পারে।
এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে সর্দি-কাশির মতো সমস্যা বাড়ছে ঘরে ঘরে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, আলু চাষিদের জন্য কুয়াশা কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ দীর্ঘক্ষণ কুয়াশা থাকলে 'ধসা' রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে আজ বঙ্গে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে এবং রোদের দাপট দেখা যাবে। তবে মাঘের শেষে এই হিমেল পরশ আর মাত্র কয়েক দিনের অতিথি।

