চার মাস পর উদ্ধার WWII মর্টার নিষ্ক্রিয়, স্বস্তি বীরভূমে
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বীরভূমের বোলপুরে অজয় নদীর তীরে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) একটি মর্টার অবশেষে নিষ্ক্রিয় করল ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)। শনিবার সেনার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে বিকট শব্দে। দীর্ঘ চার মাস ধরে উদ্ধার হওয়া এই বিপজ্জনক বিস্ফোরকটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অজয় নদীর বালির চর থেকে সন্দেহজনক একটি বস্তু দেখতে পান এলাকার মানুষ। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মর্টার (mortar shell) বলে অনুমান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে থাকার ফলে সেটি নজর এড়িয়ে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে খবর দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পুরনো বিস্ফোরক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সামান্য নাড়াচাড়া বা তাপের প্রভাবে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
শনিবার সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (Bomb Disposal Squad) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা সুরক্ষিত করে। সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে আশেপাশের গ্রামবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই শুরু হয় নিষ্ক্রিয়করণের প্রক্রিয়া।
অভিযান চলাকালীন বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশেপাশের এলাকা। তবে সেনার দক্ষ তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীর পাড়ে উদ্ধার হওয়া একটি মর্টার সেল আগুনে স্পর্শ করার ফলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার বোলপুরে উদ্ধার হওয়া মর্টার নিষ্ক্রিয়করণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের পুরনো যুদ্ধাস্ত্র প্রায়শই মাটির নিচে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে। তাই উদ্ধার হওয়ার পর দ্রুত সেনার তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জরুরি।
এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে থাকা বাসিন্দারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন।

