ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ, সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড — যমুনা ভবন চত্বরে জারি ১৪৪ ধারা
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ফের অশান্ত বাংলাদেশ। নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় রাস্তায় নামলেন সরকারি কর্মচারীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সরকারি বাসভবন যমুনা ভবন ঘিরে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে মিছিল শুরু হলে শাহবাগ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ তা আটকে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই বসে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রথমে মাইকিং করে জমায়েত সরানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল, লাঠিচার্জ এবং পরে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ছ’জন আহত হয়েছেন বলে খবর। কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় যমুনা ভবন সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে কোনও ধরনের জমায়েত।
আন্দোলনকারী কর্মচারীদের দাবি, সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে এগোন।
ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানালেও সরকার কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেয়নি। বাজারে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব।”
প্রসঙ্গত, দাবিদাওয়ার অংশ হিসেবে এর আগেও সরকারি কর্মচারীরা টানা কয়েকদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন। শুক্রবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা অংশ নেন।
নির্বাচনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ লগ্নে এসে এই বিক্ষোভ নতুন করে চাপ বাড়াল ঢাকার প্রশাসনের উপর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

