ভাতা ঘোষণায় অখুশি, ফের রাজপথে আশাকর্মীরা স্বাস্থ্যভবনের সামনে বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: রাজ্য বাজেটে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও আশাকর্মীদের অসন্তোষ কাটল না। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশাকর্মীরা কলকাতার স্বাস্থ্যভবনের সামনে জমায়েত করেন। ১০ দফা দাবিতে তাঁদের এই বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্বাস্থ্যভবন চত্বরে।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে আশাকর্মীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মরত অবস্থায় কোনও আশাকর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে এই ঘোষণায় খুশি নন আশাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই ভাতা বৃদ্ধি অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের তুলনায় সরকারের সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।
শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু হতেই বিধাননগর পুলিশের তরফে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ব্যারিকেড করে আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হয়। ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও আশাকর্মীদের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
এরই মধ্যে আশাকর্মীদের ১৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যভবনের ভিতরে গিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সেখানে তাঁরা তাঁদের ১০ দফা দাবি সংবলিত ডেপুটেশন জমা দেন।
আশাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাজেটের মতো রাজ্য বাজেটেও তাঁরা বঞ্চনার শিকার। মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মৃত আশাকর্মীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হলেও প্রশ্ন উঠছে—এতদিন পরে কেন এই সিদ্ধান্ত? পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ কত টাকা রাজ্যের হাতে আসছে, সেই হিসেবও প্রকাশের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমতারা খাতুন বলেন,
“আমাদের ন্যায্য দাবিগুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ধরনের আচরণ বন্ধ না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
১০ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম—
আশাকর্মীদের অবিলম্বে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ, ইনসেনটিভ ও নির্দিষ্ট ভাতায় কোনও বৈষম্য না রাখা, সরকারি কাজের সমস্ত অর্ডার কপি প্রদান, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য কোনও দায়িত্ব না দেওয়া, পিএলআই ও জল পরীক্ষার বকেয়া অবিলম্বে মেটানো, নিয়মিত মোবাইল রিচার্জ প্যাক প্রদান এবং মেডিক্যাল লিভ সহ সমস্ত সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা।
এছাড়াও করোনা আক্রান্ত আশাকর্মীদের জন্য ঘোষিত এক লক্ষ টাকা অবিলম্বে প্রদান, অতিরিক্ত কাজ যেমন ভোট ডিউটি, পরীক্ষা, ন্যাপকিন বিক্রি ইত্যাদি বন্ধ করা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতির দাবিও তোলা হয়েছে।
বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য স্বাস্থ্যভবন সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যভবন চত্বরে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

