হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বরফে ঢেকেছে মানালি, রাস্তায় আটকে পর্যটকরা—গরম চা নিয়ে ত্রাতা গোজরা গ্রামের মহিলারা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে হিমাচল প্রদেশের মানালি। তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে হিমাঙ্কের নীচে। মরশুমের প্রথম তুষারপাতে চারদিক ঢেকে গিয়েছে সাদা বরফে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় মাইলের পর মাইল ধরে আটকে রয়েছে অসংখ্য গাড়ি। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকরা।
এই পরিস্থিতিতেই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সামনে আনলেন হিমাচলবাসী। মানালির গোজরা গ্রামের একদল মহিলা বরফে আটকে পড়া পর্যটকদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কনকনে ঠান্ডায় বাড়ি থেকে গরম চা বানিয়ে ফ্লাস্কে ভরে তাঁরা পৌঁছে যান রাস্তায়। বরফে জমে থাকা পর্যটকদের হাতে তুলে দেন ছোট ছোট কাপে গরম চা। ঠান্ডায় জমে যাওয়া শরীরে সেই এক কাপ চা হয়ে ওঠে অমৃতসম।
ঘটনাটির ভিডিও করেন আটকে পড়া পর্যটকদেরই একজন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মন জয় করে নেন হিমাচলবাসীরা। কেউ লিখেছেন, “এই হলো আসল পর্যটন—কোনও রিল নেই, কোনও চিৎকার নেই, আছে শুধু মানবতা।” আবার কারও মন্তব্য, “বিপদের সময় পাহাড়ের মানুষরাই সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।”
দীর্ঘ তিন মাসের খরা কাটিয়ে মরশুমের প্রথম তুষারপাত হিমাচলের জনজীবন একদিকে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই তৈরি করেছে বিপর্যয়। তুষারপাতের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ৬০০-র বেশি রাস্তা। অনেক পর্যটক গাড়িতেই রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ আবার বরফের উপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চাম্বা, কুলু ও লাহুল-স্পিতি-সহ একাধিক এলাকায় চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে জারি করা হয়েছে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’। হিমাচল প্রশাসনের তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ। পাশাপাশি পর্যটকদের আপাতত মানালিতে না আসার জন্যও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটক মানালিতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু আচমকা তুষারপাতে ছুটি বদলে যায় দুশ্চিন্তায়। এই পরিস্থিতিতে গোজরা গ্রামের মহিলাদের মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে দিল—প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও পাহাড়ের মানুষদের হৃদয় বরফের মতো ঠান্ডা নয়, বরং উষ্ণ মানবতায় ভরা।

