নিজস্ব সংবাদদাতা ,নিউজ ইন্ডিয়া : আজ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানী দিল্লির কর্তব্যপথে অনুষ্ঠিত হল এক বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক সরকারি অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই গোটা এলাকা ছিল দেশপ্রেমের আবহে মুখরিত। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই শুরু হয় এই বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা, যা ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে উঠে আসে।
সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তব্যপথে পৌঁছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হয়। এই মুহূর্তে কর্তব্যপথজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এরপর শুরু হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল আকর্ষণ কুচকাওয়াজ। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার সুসজ্জিত কন্টিনজেন্ট শৃঙ্খলাবদ্ধ পদযাত্রার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা ও শক্তি প্রদর্শন করে। সামরিক বাহিনীর আধুনিক অস্ত্র, যুদ্ধযান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। দর্শকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয় অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সামরিক যানবাহনের শোভাযাত্রা।
ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইপাস্ট ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলি আকাশে নিখুঁত ফর্মেশনে উড়ে দেশের আকাশসীমায় শক্তির বার্তা দেয়। এই দৃশ্য উপস্থিত দর্শক ও দেশবাসীর মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
সামরিক কুচকাওয়াজের পাশাপাশি ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ট্যাবলো প্রদর্শনী। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তরের ট্যাবলোতে ভারতের বৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ছবি ফুটে ওঠে। কোথাও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, কোথাও আধুনিক ভারতের অগ্রগতির গল্প, আবার কোথাও সামাজিক সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়।
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে ‘নারী শক্তি’ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের মহিলা সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পদযাত্রা ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নারী ক্ষমতায়নের শক্তিশালী বার্তা দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা, রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা এবং বিদেশি অতিথিরাও। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের গুরুত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের শক্তিকে তুলে ধরে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও ছিল সর্বোচ্চ সতর্কতা। কর্তব্যপথ ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এর ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, পরিবার, শিশু ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তেরঙ্গা হাতে তাঁরা কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন এবং দেশপ্রেমের আবহে দিনটি উদযাপন করেন। শিশুদের চোখে ছিল কৌতূহল, প্রবীণদের চোখে ছিল গর্ব আর আবেগ।
দিনের শেষে প্রজাতন্ত্র দিবসের এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি কুচকাওয়াজ নয়, বরং ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র, ঐক্য ও শক্তির এক মহৎ উদযাপন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কর্তব্যপথে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্যের পথে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

