নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:—বুথ ফেরত সমীক্ষাতেই গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত মিলেছিল। শুক্রবার সকালে ফলপ্রকাশ শুরু হতেই বৃহন্মুম্বই পুরসভায় বিপুল আসনে এগিয়ে গেল বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট। প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাজিক ফিগার ১১৪ পেরিয়ে যায় তারা। ২৯টি পুরসভার মধ্যে প্রায় ২০টিতেই এগিয়ে রয়েছে মহাযুতি। ঠাকরে ভাইদের জোট কার্যত দাঁত ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছে। পুনে ও নাগপুরেও জয় পেয়েছে বিজেপি জোট।
বৃহন্মুম্বই পুরসভা দেশের সবচেয়ে ধনী পুরসভা। প্রতি বছর প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট থাকে এই পুরসভার। জনসংখ্যার নিরিখেও এটি দেশের বৃহত্তম পুরসভা। গত বৃহস্পতিবার বৃহন্মুম্বইয়ের মোট ২২৭টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়। পুরসভা দখলের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছিল ১১৪। ভোট গণনা শুরু হতেই যে প্রবণতা দেখা যায়, তাতে দ্রুতই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট।
এবারের পুরসভা নির্বাচনে মহাযুতিতে ছিল না অজিত পাওয়ারের এনসিপি। তিনি কাকা শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে থাকেন। অন্যদিকে মহাবিকাশ আঘাড়ির মধ্যেও সর্বাত্মক জোট গড়ে ওঠেনি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুনে, নাসিক, নাগপুর ও থানেতেও এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। কোলাপুরে এগিয়ে কংগ্রেস। ফল প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “কংগ্রেস এবার কাঁদতে শুরু করবে, আর সবকিছুর জন্য অন্যকে দোষ দেবে।”
২০২২ সালের জুনে শিবসেনা ভাঙনের পর এই প্রথম বৃহন্মুম্বই পুরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। সে বার পুরসভার দখল নিয়েছিল অবিভক্ত শিবসেনা। ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৪টিতে জিতে তারা বৃহত্তম দল হয়েছিল। ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে এনডিএ ছেড়ে দেন উদ্ধব ঠাকরে। এরপর কংগ্রেস ও এনসিপির সমর্থনে পুরসভা চালানো হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালের মার্চে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এবার উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন রাজ ঠাকরে, তবে সেই জোট ভোটের ফলাফলে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি।

