ভারতের জন্য ‘প্যাক্স সিলিকা’ কি বড় সুযোগ, নাকি আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদ?

NEWS INDIA বাংলা
0

নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:বিশ্ব জুড়ে এখন অস্ত্রের লড়াইয়ের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের লড়াই। এই প্রতিযোগিতায় চিনকে টেক্কা দিতে এবং প্রযুক্তিগত আধিপত্য বজায় রাখতে আমেরিকা গড়ে তুলেছে একটি নতুন জোট— ‘প্যাক্স সিলিকা’ (Pax Silica)।

সোমবার ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ভারতকে এই শক্তিশালী জোটের পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো— সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, যাতে ভবিষ্যতে কোনও দেশ চিপ সরবরাহ বন্ধ করে ব্ল্যাকমেইল করতে না পারে।

বর্তমানে এই জোটে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, ইজ়রায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে ভারতের নামও। মোদী সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ভারতকে একটি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। প্যাক্স সিলিকায় যোগ দিলে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের উন্নত প্রযুক্তি এবং বিপুল বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই জোটে যুক্ত হলে ভবিষ্যতে মহামারি বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও চিপ সরবরাহ সচল থাকবে। চিনের উপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং হাই-এন্ড প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তির নাগাল পাবে ভারত। তবে লাভের পাশাপাশি রয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নীতির ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা সাধারণত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করে। সেই প্রযুক্তি বা প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য ভারত কোন দেশকে রফতানি করতে পারবে, তা নিয়েও শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা এই জোটে যোগ দিলে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া, শিল্পের কাঁচামালের জন্য ভারত এখনও অনেকাংশে চিনের উপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে সেই নির্ভরতা কমাতে গেলে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ধরনের জোটে থাকার অর্থ— জোটনেতা আমেরিকা কোনও সংঘাতে জড়ালে, পরোক্ষে অন্য সদস্য দেশগুলিকেও তার পাশে দাঁড়াতে হতে পারে। ভারত এতদিন ‘জোট নিরপেক্ষ’ ও ‘বহুপাক্ষিক’ নীতি অনুসরণ করে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত মোদী সরকার এই প্রস্তাবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন নজরে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!