নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:- একবার আসানসোলে বেআইনি কয়লা উত্তোলনে ধস নামলো খনিতে। ঘষের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে থাকার সম্ভাবনা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল স্থানীয় থানার পুলিশ, দমকল এবং বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ।
![]() |
| নিজস্ব চিত্র |
জানা গিয়েছে এদিন, বিসিসিএলের খোলামুখ খনি থেকে বেআইনীভাবে কয়লা চুরি করতে গিয়েই এই ধস নামে খনিতে। এই ধসে বেশ কয়েকজনের চাপা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আসানসোলের কুলটি থানার বড়িরা এলাকার ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলেই বিসিসিএল কতৃপক্ষ এবং কুলটি থানার পুলিশ পৌছায়।বিসিসিএলের তরফে জেসিবি দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে যে স্থানীয় দমকল বাহিনী। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে খনির চারপাশে। এই ঘটনায় এলাকার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে।
যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে বিসিসিএলের খোলামুখ খনিতে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিসিসিএলের তরফে উদ্ধার কাজ চলছে। এখনো পর্যন্ত পুলিশের তরফে বা সরকারিভাবে অবৈধ কয়লা পাচারের তথ্য স্বীকার করা হয়নি। আর এই নিয়েই বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ। ঠিক কি কারনে সরকারি ভাবে অবৈধ কয়লা তোলার ঘটনা স্বীকার করা হচ্ছে না তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য আসানসোলের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে বিসিসিএল এর নিয়ন্ত্রিত কয়লা খনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে যে সকল কয়লা খনি পরিত্যক্ত অর্থাৎ যে খনিগুলো থেকে আর কয়লা তোলা হয় না সেগুলি সাদা বালি দিয়ে খনির মুখ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। যদিও সেই কাজে রয়েছে বিসিসিএল এর গাফিলতি। এই সুযোগেই দশকের পর দশক ধরে ধরে আসানসোল জুড়ে গজিয়ে উঠেছে অবৈধ কয়লা পাচারের চক্র। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে কাজে লাগিয়ে কয়লা মাফিয়ারা এই সকল পরিত্যক্ত খনি থেকে অবৈধ উপায়ে কয়লা উত্তোলন করে তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। অনেক সময় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের টাকার বিনিময়ে এই কাজ করতে বাধ্য করে কয়লা মাফিয়ারা। সবকিছুই স্থানীয় প্রশাসন জানে, সাধারণ মানুষের দাবি স্থানীয় প্রশাসনের মদতেই রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ কয়লা পাচার চক্র। মাঝেমধ্যেই এই ধরনের পরিতক্ত খনিগুলিতে অবৈধ কয়লা উত্তোলনের ফলে ধস নামে।

