নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া :চরম আর্থিক সংকটের মুখে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প। দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোর দাবি, ভারত থেকে শুল্কমুক্ত সস্তা সুতো আমদানির ফলে স্থানীয় শিল্প কার্যত ধ্বংসের মুখে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মিল ইউনিট বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বস্ত্রকল মালিকরা।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, চলতি মাসের মধ্যেই সুতার শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে। বিশেষ করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতির সুতা আমদানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা বন্ধের দাবি জোরালো হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকরা তুলনামূলক কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে ভারতীয় সুতির সুতা এবং চীন থেকে আমদানি করা পলিয়েস্টার সুতার ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশীয় মিল মালিকদের অভিযোগ, এই নির্ভরতা স্থানীয় বস্ত্রশিল্পকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-র দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন।
মিল মালিকদের প্রধান দাবি সুতার শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা অবিলম্বে প্রত্যাহার, ভর্তুকিযুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহসং, কটকালে ভ্যাট আদায় হ্রাস,ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো,শিল্প বাঁচাতে সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি কিলোগ্রাম সুতা আমদানি করেছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আমদানির প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে।
বিটিএমএ সতর্ক করেছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং ইউনিট বন্ধ হলে দেশজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যা সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) মিল মালিকদের দাবির বিরোধিতা করেছে। রপ্তানিকারকদের দাবি, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা আমদানিকৃত ভারতীয় সুতার তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল এবং গুণমানেও ধারাবাহিক নয়। আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলিও ভারতীয় সুতা ও কাপড়কেই বেশি পছন্দ করে।
ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারক অমিত সোতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে জানিয়েছেন, শুল্কমুক্ত সুতা আমদানি বন্ধ হলে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানি শিল্পের ক্ষতি করবে।
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অনিয়মিত সরবরাহ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেক মিলে উৎপাদন ক্ষমতা কমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ছাড়া এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি ও কর্মসংস্থান নির্ভর শিল্প মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে পারে।

