বকেয়া ডিএ মেটাতে আরও সময় চাইল রাজ্য সরকার হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া:রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ নিয়ে অশান্তি ও আন্দোলন চলছে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দাবি, বহু বছর ধরে তাঁদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বকেয়া পড়ে রয়েছে।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। একসময় বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন Mamata Banerjee বলেছিলেন, যে সরকার তার কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। বর্তমানে সেই বিষয়টি নিয়েই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ পরিশোধের নির্দেশ আগেই দিয়েছিল Calcutta High Court। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার যায় Supreme Court of India-এ।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। এর জন্য ছয় সপ্তাহের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় রাজ্য সরকার।
পরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলার শুনানি হয়।
এরপর ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিত্রের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের একটি আইনি অধিকার এবং তা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ দুই দফায় মিটিয়ে দিতে হবে মে মাসের মধ্যেই।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ কতটা দেওয়া হবে এবং কী সময়সীমার মধ্যে তা মেটানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি Indu Malhotra-র নেতৃত্বাধীন কমিটি।
তবে আদালতের নির্দেশের পরও এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পাননি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে ফের আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে।
এদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতে গেলে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মচারীর নথি যাচাই করতে হবে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত অনেক তথ্য ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত ছিল না, বরং হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।
সেই নথিগুলি ডিজিটালাইজ করতে সময় লাগছে বলেই দাবি রাজ্য সরকারের। পাশাপাশি প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও আদালতে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বকেয়া ডিএ পরিশোধের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই আবেদন ঘিরে আবারও হতাশা তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে।

