তেল-গ্যাস সরবরাহে চাপ, পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠকে মোদী, একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিতি
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের উপরেও। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র সরকার।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi তাঁর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh, বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar, অর্থমন্ত্রী Nirmala Sitharaman এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী Hardeep Singh Puri-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল তেল, গ্যাস, সার-সহ জরুরি পণ্যের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, বিশেষ করে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকাকে ঘিরে উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারত-সহ বহু দেশ উদ্বেগে রয়েছে।
তবে এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের তিনটি তেলবাহী জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, ইউএই, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ইজরায়েল এবং ইরানের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজির বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস পরিষেবার দ্রুত সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
প্রথমদিকে আতঙ্কের কারণে এলপিজি সিলিন্ডারের বুকিং বেড়ে গেলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও তা মোকাবিলায় নিরন্তর কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত সরাসরি যুদ্ধ না হলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে আগাম প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র সরকার।

