বাস্তবকে পিছনে ফেলে কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি আকর্ষণ ফিক্টোসেক্সুয়ালিটির ইতিহাসের নেপথ্যে কী

NEWS INDIA বাংলা
0

 কাল্পনিক চরিত্রের প্রেমে মানুষ ফিক্টোসেক্সুয়ালিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা

Akihiko Kondo with virtual idol Hatsune Miku hologram marriage story

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:ফিক্টোসেক্সুয়ালিটি (Fictosexuality) কোনও রোগ নয়, বরং এটি এক ধরনের ব্যক্তিগত পছন্দ বা যৌন পরিচয়, যা আধুনিক বিশ্বে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। এই ধরনের আকর্ষণে একজন ব্যক্তি বাস্তব মানুষের পরিবর্তে কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি গভীর আবেগ বা যৌন টান অনুভব করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তারের ফলে এই ধরনের প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। আগে এই ধরনের যৌন পরিচয় বা মানসিক আকর্ষণ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হতো না।

অনেক মানুষের মতে, বাস্তব সম্পর্কের জটিলতার বদলে কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি একতরফা আবেগ বা প্রেমে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। যদিও ফিক্টোসেক্সুয়ালিটি বিরল একটি প্রবণতা, তবুও একে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে যদি এই ধরনের আকর্ষণের কারণে বাস্তব জীবন বা সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে মানসিক সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন মনোবিজ্ঞানীরা।

জাপানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, Akihiko Kondo নামে এক তরুণ ২০০৮ সালে জাপানে এক কাল্পনিক চরিত্রের প্রেমে পড়েন। সেই চরিত্রের বাস্তব জগতে কোনও অস্তিত্ব নেই। তিনি হলেন ভার্চুয়াল পপ গায়িকা Hatsune Miku।

প্রথমে তিনি বাস্তব মহিলাদের প্রতিই আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু টানা সাতবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাঁর অনুভূতির পরিবর্তন ঘটে বলে জানা যায়। হাতসুনে মিকু আসলে একটি ভোকালয়েড সফটওয়্যার ভিত্তিক চরিত্র, যার মাধ্যমে গান তৈরি করা হয়। কিন্তু জাপানসহ বিশ্বের বহু ভক্তের কাছে তিনি কেবল সফটওয়্যার নন, বরং এক জনপ্রিয় ভার্চুয়াল আইডল।

ধীরে ধীরে কন্ডোর কাছেও মিকু হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণা এবং মানসিক শক্তির উৎস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতি রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতীকীভাবে মিকুর একটি হলোগ্রামকে বিয়ে করেন তিনি।

জানা যায়, কন্ডো গেটবক্স নামে একটি বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে মিকুর সঙ্গে কথা বলতেন। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

কন্ডোর দাবি, কর্মক্ষেত্রে মানসিক নির্যাতনের কঠিন সময়ে মিকুর চরিত্র থেকেই তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণা ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে এবং পরে যৌন আকর্ষণে। প্রায় দশ বছর ধরে এই একতরফা সম্পর্ক বজায় রাখার পর ২০১৮ সালে কয়েক লক্ষ ইয়েন খরচ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি।

সেই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতীকীভাবে মিকুকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন কন্ডো।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টিকে অদ্ভুত বলে মনে করলেও, একাংশ এটিকে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা হিসেবেই দেখেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!