ফাল্গুনেই গরমের দাপট! দক্ষিণবঙ্গে অকাল উষ্ণতা, উত্তরে মেঘের আনাগোনা

NEWS INDIA বাংলা
0

 বসন্তের শুরুতেই গ্রীষ্মের ছোঁয়া—দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা

West Bengal Weather February Heat Update


নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:বসন্তের বাতাস দক্ষিণবঙ্গে এখন কেবলই স্মৃতি। ফাল্গুনের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবহাওয়ার মেজাজ কার্যত গ্রীষ্মের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। মাঘের বিদায়ের পর থেকেই শীতের আমেজ ফিকে হতে শুরু করেছিল, কিন্তু আজ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাজ্যের আবহাওয়া চিত্রে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি ওপরে অবস্থান করছে।

দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি এখন বেশ অস্বস্তিকর। কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভোরের দিকে সামান্য কুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথেই চড়া রোদ দাপট দেখাচ্ছে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ২৯°C থেকে ৩১°C-এর আশেপাশে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬°C-এর ঘরে থাকলেও রোদের প্রখরতায় তা অনুভূত হচ্ছে না।

পশ্চিমের জেলাগুলোতে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম) শুষ্কতা আরও বেশি। সেখানে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক ও ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী ৪-৫ দিন দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ থাকায় সরাসরি সূর্যের তাপ মাটির উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গ যখন গরমে হাঁসফাঁস করছে, উত্তরবঙ্গের চিত্রটি কিছুটা আলাদা। হিমালয় সংলগ্ন পাঁচ জেলায়— দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আবহাওয়া বেশ মনোরম। তবে সমতলে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাচ্ছে, যার ফলে যান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটছে।

সিকিম এবং সংলগ্ন দার্জিলিংয়ের ওপর একটি দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করায় বিকেলের দিকে পাহাড়ি এলাকায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতের দিকে হালকা শীতের আমেজ এখনও বজায় আছে।

আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণে উদ্বেগে পড়েছেন রাজ্যের কৃষকরা। হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গম ও সর্ষে চাষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা গরম আর রাতে সামান্য ঠান্ডার এই ‘মিক্সড ওয়েদার’ ভাইরাল ফিভারের জন্য আদর্শ পরিবেশ।

রোদে বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত জল পান করার এবং ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এই সময় বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মার্চ মাস পড়ার আগেই যেভাবে পারদ চড়ছে, তাতে এ বছর গরম বেশ জাঁকিয়ে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরে এই মুহূর্তে কোনো নিম্নচাপের পরিস্থিতি নেই, ফলে সমুদ্র থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়া বাধা পাচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসই এখন রাজ্যের আবহাওয়ার নিয়ন্ত্রক।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো হেরফের হবে না। তবে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই তাপমাত্রা ৩২°C ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ফাল্গুনের এই তপ্ত মেজাজ কি আগাম কালবৈশাখীর ইঙ্গিত? সেই উত্তর পেতে আপাতত আকাশের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!