ভোটের আগে শেষ বাজেট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও DA ঘিরে কী চমক রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার?
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের শেষ বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চরম কৌতূহল। আজ বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস) পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ভোটের মুখে এই বাজেটে কী কী ‘চমক’ থাকতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,২০০ টাকা পাচ্ছেন। লোকসভা ভোটের আগে এই অঙ্ক এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পের টাকা ফের বাড়িয়ে বড় চমক দিতে পারে নবান্ন।
গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। এ বার এই অঙ্ক কতটা বাড়বে, সেটাই এখন দেখার।
এর পাশাপাশি নজর রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA)-র দিকেও। উল্লেখ্য, আজই সুপ্রিম কোর্টে বহুচর্চিত DA মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। ফলে বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএ নিয়ে কোনো নতুন ঘোষণা বা বিশেষ বার্তা আসে কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে কর্মচারী মহল।
নবান্ন সূত্রের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে আরও মজবুত করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে রাজ্যের বাজেট বরাদ্দ ৭–৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া আশাকর্মী, অস্থায়ী কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য কোনো নতুন সুবিধা বা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হয় কি না, তা নিয়েও মানুষের মনে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা দেবেন। তার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করবেন।

