সাত বছর পরও পুলওয়ামা হামলার ক্ষত অমলিন, শহিদদের স্মরণে দেশ
ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন হিসেবে চিহ্নিত হলেও, দেশের কাছে এই দিনটি এক গভীর বেদনার স্মৃতি। আজ থেকে সাত বছর আগে, ২০১৯ সালের এই দিনেই জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার লেথপোরায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান। সময়ের ব্যবধান সাত বছর হলেও, সেই রক্তাক্ত বিকেলের স্মৃতি আজও সমানভাবে জীবন্ত।
সেদিন জম্মু থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশে এগোচ্ছিল সিআরপিএফ-এর একটি বিশাল কনভয়। ৭৮টি বাসে প্রায় আড়াই হাজার জওয়ান ফিরছিলেন দায়িত্বস্থলে। কেউ ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন পরিবার ছেড়ে, কেউ নতুন পোস্টিংয়ে যোগ দিতে। কিন্তু লেথপোরা এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি কনভয়ের একটি বাসে ধাক্কা মারে। কয়েকশ কেজি আরডিএক্স (RDX)-এর ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে যায় বাসটি। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ, রক্তে ভিজে ওঠে জাতীয় সড়ক।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ।
আজ, সাত বছর পর সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে স্মৃতিসৌধ। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সহকর্মী জওয়ান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বিউগলের ‘লাস্ট পোস্ট’-এর সুরে নীরব হয়ে দাঁড়ায় উপস্থিত সকলেই।
পুলওয়ামা হামলার পর দেশের নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ঘটনার মাত্র ১২ দিনের মাথায় বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া অবস্থানের বার্তা দেয়। “Zero Tolerance to Terrorism”—এই নীতিতেই আজ পরিচালিত হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বর্তমানে জওয়ানদের যাতায়াত ব্যবস্থায়ও এসেছে আমূল বদল। জাতীয় সড়কের বদলে আকাশপথের ব্যবহার বেড়েছে। সড়কপথ এখন ড্রোন নজরদারি ও উন্নত ইলেকট্রনিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায়।
তবুও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন শহিদদের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ থেকে তামিলনাড়ু—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শহিদ পরিবারগুলির কাছে এই দিনটি আজও এক ব্যক্তিগত শোকের দিন। সাত বছর পেরোলেও তাঁদের জীবনের ক্ষত আজও অমলিন।
এই দিনে দেশ কেবল শোকই প্রকাশ করে না, বরং নতুন করে শপথ নেয় দেশের অখণ্ডতা রক্ষার। বীর শহিদদের আত্মবলিদান আজও প্রতিটি জওয়ানের মনে দেশপ্রেমের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে।
আজকের দিনটি মনে করিয়ে দেয় — আমরা যখন স্বাভাবিক জীবনে উৎসব পালন করি, তখন সীমান্তে কেউ নিজের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। লেথপোরার সেই রক্তাক্ত বিকেল ভারতের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শহিদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ আজও একটাই বার্তা দেয় —
তোমাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

