নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:ভোটের মুখে বড় ধাক্কা খেল বঙ্গ সিপিআইএম (CPIM)। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান।
সোমবার সকালে তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে প্রতীক উর রহমান লিখেছেন, তিনি পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। এর ফলে তিনি মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলেন এবং সেই কারণেই দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ইস্তফা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি প্রতীক উর। তিনি জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে এবং তাঁদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই পদত্যাগপত্র তিনি নিজে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেননি। তাঁর কথায়,
“আমি এই বিষয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে চাইছি না। তবে বলতে পারি, আমার কাছে সব প্রমাণ রয়েছে। সুদীপ্ত সেনের লাল ডায়েরি হয়তো নেই, কিন্তু জবাব রাখা আছে সব কিছুর।”
উল্লেখ্য, প্রতীক উর রহমান আলিমুদ্দিনের এক পরিচিত তরুণ মুখ। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। জয়ী না হলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব দলীয় মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার তাঁকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলের রাজ্য কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এই পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তৃণমূল ত্যাগী হুমায়ুন কবীরের সাক্ষাৎ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ঘিরে দলীয় অন্দরে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছে।
এই আবহেই প্রতীক উর রহমানের পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দলীয় ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কিছু আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছিল। এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা—তবে কি তিনি তৃণমূলে (TMC) যোগ দিতে চলেছেন?

