নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:পিরিয়ড, যৌনতা কিংবা যৌনস্বাস্থ্য—এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে এখনও অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। অথচ সচেতনতার অভাব থেকেই তৈরি হয় নানা ভুল ধারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে পিরিয়ড চলাকালীন সেক্স নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা আজও রয়ে গিয়েছে।
![]() |
| পিরিয়ড চলাকালীন যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা জরুরি |
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক চলাকালীন যৌন মিলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন না করলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কনডম ব্যবহার না করে সেক্স করলে এই সময় মানব ইমিউনো ডিফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV)-সহ একাধিক যৌনবাহিত রোগ (STD/STI) সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ পিরিয়ডের সময় জরায়ুর মুখ কিছুটা খোলা থাকে এবং রক্তের সংস্পর্শে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, পিরিয়ড চলাকালীন যোনিপথে যৌন মিলন হলে কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় সেক্স করলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) বা অন্যান্য সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে।
অনেকেই মনে করেন, পিরিয়ডের সময় সেক্স করলে গর্ভধারণের কোনও সম্ভাবনা নেই। বাস্তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। যদিও এই সময় গর্ভধারণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, তবুও তা একেবারে শূন্য নয়। তাই অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ এড়াতে কনডম বা উপযুক্ত গর্ভনিরোধক ব্যবহার করা জরুরি।
অন্যদিকে, কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। পিরিয়ড চলাকালীন শরীরে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এই সময় যৌন মিলনে মানসিক স্বস্তি পাওয়া যায় এবং জরায়ুর পেশির সংকোচন-প্রসারণের ফলে মাসিকজনিত ব্যথা কিছুটা কমতেও পারে। এছাড়া পিরিয়ডের রক্ত প্রাকৃতিক লুব্রিক্যান্টের মতো কাজ করায় সঙ্গমে আরাম অনুভূত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পিরিয়ড চলাকালীন সেক্স করলেও অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, কনডম ব্যবহার করা এবং শরীরে কোনও সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে যৌন মিলন এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই সুস্থ যৌনজীবনের চাবিকাঠি—এই কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

