সময়মতো অফিসার তথ্য জমা না পড়ায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে রাজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:সময়মতো অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিকবার জবাবদিহি করতে হয়েছে রাজ্যকে। এবার একই অভিযোগ তুলল নির্বাচন কমিশনও।
মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে শুক্রবার পর্যন্তও কমিশনের হাতে সম্পূর্ণ তথ্য পৌঁছায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের তরফে ৮,৫০৫ জন অফিসারের একটি তালিকা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই তালিকার মধ্যে প্রায় ২,০০০ জন অফিসারের বিস্তারিত তথ্য এখনও অনুপস্থিত।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৫০০ জন ইতিমধ্যেই এইআরও (Assistant Electoral Registration Officer) হিসেবে কর্মরত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—যারা ইতিমধ্যেই এইআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা আবার কীভাবে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজ করবেন?
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিযোগ করেছেন, এইআরও হিসেবে কর্মরত প্রায় ৫০০ জনের নাম আলাদা করে পাঠানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলেছে।
এদিকে সময়সীমা লঙ্ঘন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল ৪ তারিখের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার, কিন্তু তা জমা পড়ে ৭ তারিখে।
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তড়িঘড়ি করে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ অফিসারের নামের তালিকা কমিশনের কাছে পাঠায় রাজ্য সরকার। তবে আদালতে কমিশন জানিয়েছে—শুধুমাত্র নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে, অফিসারদের পদমর্যাদা, বর্তমান দায়িত্বসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে—উক্ত ৮,৫০৫ জন অফিসারের বিস্তারিত রিপোর্ট মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ডিইও (District Election Officer) ও ইআরও (Electoral Registration Officer)-দের কাছে জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে, কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া যাবে।
অসম্পূর্ণ তথ্য, সময়সীমা লঙ্ঘন এবং একই অফিসারের একাধিক ভূমিকা—সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দিকে।

