নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বাড়ির দরজার সামনে সাদা থান রাখা— অতীতে বিরোধীদের ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগে এমন ঘটনার নজির রয়েছে। অভিযোগ উঠত বাম আমলে বিরোধীদের আতঙ্কিত করতে এই ধরনের প্রতীকী বার্তা ব্যবহার করা হতো। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল আমলেও উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে বিজেপির এক বুথ এজেন্টের বাড়ির সামনে সাদা থান রাখার ঘটনা সামনে এসেছিল।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগেই বীরভূমের নানুরে ফের সামনে এল একই ধরনের অভিযোগ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিযোগ, এক বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ফুল, মিষ্টি, ধূপ এবং একটি সাদা থান রেখে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে নানুর বিধানসভার থুপসারা অঞ্চলের কুরগ্রামে। বিজেপির কুরগ্রাম মণ্ডল সভাপতি রামকৃষ্ণ মণ্ডলের বাড়ির সামনের গেটে এই জিনিসগুলি রেখে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার সকালে বাড়ির মূল গেট খুলতেই একটি ব্যাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সেই ব্যাগের ভিতরে ছিল ফুল, মিষ্টি, ধূপের পাশাপাশি একটি সাদা থান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিজেপির তরফে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের ভীতিগ্রস্ত করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে।
রামকৃষ্ণ মণ্ডলের বক্তব্য, “হয়তো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে বা আমাকে দমাতে এই কাজ করা হয়েছে। আমাকে ভয় দেখিয়ে বিজেপি ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এইভাবে বিজেপি কর্মীদের দমানো সম্ভব নয়। এতে তৃণমূলের পরাজয়ই নিশ্চিত হবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নানুর থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এই ঘটনাকে বিজেপির ‘প্রচারের কৌশল’ বলে দাবি করেছেন।
তার বক্তব্য, “বিজেপির টিআরপি বাড়ানোর জন্যই এই ধরনের ঘটনা সাজানো হয়েছে। ২০১১ সালের আগে বাম আমলে এইসব রীতিনীতি দেখা যেত। নানুরে বিজেপির যে কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা মূলত বাম ঘরানার। তারা আবার এলাকায় অশান্তি তৈরি করতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, “নানুরে পুনরায় খুনোখুনি বা সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতে কোনো লাভ হবে না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

