সরকারি টাকা ফেরালেন বাবা, নন্দীগ্রামে নজির
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ যেখানে প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত এক নজির স্থাপন করল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরও এক উপভোক্তার বাবা সেই অর্থ স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন।
নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ঘোলপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল মণ্ডলের ছেলে সুব্রত মণ্ডলের নামে সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই সুব্রত মণ্ডল ভারতীয় রেলে চাকরি পান। ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্য গ্রহণ করা নৈতিকভাবে ঠিক হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেন সুব্রত ও তার পরিবার। সেই অনুযায়ী সুশীল মণ্ডল নিজে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে গিয়ে পুরো ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম জুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে এবং সততার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও জানান, সাধারণত সরকারি প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর তা ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে টাকা ফেরত দেওয়ায় প্রকৃত প্রাপকের হাতে সেই সুবিধা তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন,
এই ঘটনা সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং অন্যদেরও সচেতন করবে।
এই প্রসঙ্গে সুশীল মণ্ডল বলেন,
“আমার ছেলে রেলে চাকরি পেয়েছে। তাই এখন এই টাকা আমাদের দরকার নেই। যাদের প্রয়োজন আছে তাদেরই এই সুবিধা পাওয়া উচিত।”
তিনি আরও অনুরোধ করেন,
যাদের আর্থিকভাবে প্রয়োজন নেই, তারা যেন সরকারি প্রকল্পের টাকা গ্রহণ না করে অন্য প্রাপকদের সুযোগ করে দেন।
এই ঘটনাকে অনেকেই সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

