বিপদ দমাতে পারেনি জেদ: হাসপাতালের বিছানায় বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল লড়াকু মৃত্তিকা
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই জীবনের প্রথম বড় লড়াই। কিন্তু সেই লড়াইয়ের শুরুতেই যদি নেমে আসে চরম বিপর্যয়? মঙ্গলবার সকালে এমনই এক শিউরে ওঠা ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলার চালসা-মেটেলি এলাকা। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল দুই অদম্য মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, যাদের মধ্যে একজনের পরীক্ষা দেওয়ার লড়াকু মানসিকতা দেখে আজ কুর্নিশ জানাচ্ছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সকালে চালসা-মেটেলি রাজ্য সড়কের রেলগেট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেটেলি থেকে চালসার গয়ানাথ বিদ্যাপীঠের উদ্দেশ্যে টোটো করে রওনা দিয়েছিল দুই পরীক্ষার্থী । সঙ্গে ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোটি উল্টে যায় এবং দুই শিক্ষার্থীই গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে চালসার মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই হাসপাতালে পৌঁছায় মেটেলি থানার পুলিশ এবং শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর একজন কে ছেড়ে দেওয়া হলে সে মনের জোরে নিজের স্কুলেই পরীক্ষা দিতে যায়। কিন্তু অন্য জনের চোট বেশ গুরুতর ছিল। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তার চোখে ছিল পরীক্ষা দেওয়ার আকুতি। চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং পর্ষদের বিশেষ অনুমতিক্রমে হাসপাতালের বেডেই তার জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেয় প্রশাসন।
শিক্ষা দপ্তরের এই দ্রুত পদক্ষেপে দুই ছাত্রীর একটি মূল্যবান বছর নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেল। হাসপাতালের বেডে শুয়েই যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে খাতায় কলম চালাল মৃত্তিকা। লড়াকু এই দুই ছাত্রীর সাহস দেখে মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে অভিভাবক—সকলের মুখেই আজ প্রশংসা। তারা প্রমাণ করে দিল, লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই শেষ কথা বলতে পারে না।

