সংসদে নজিরবিহীন সংঘাত: সাসপেন্ড ৮ কংগ্রেস সাংসদ! নারাভানের বই আর মোদী-বাইডেন চুক্তি নিয়ে রণক্ষেত্র লোকসভা

NEWS INDIA বাংলা
0

 গণতন্ত্রের মন্দিরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা: ৮ সাংসদ বহিষ্কারের পর উত্তাল সংসদ চত্বর

লোকসভার বাইরে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর সাংবাদিক বৈঠক এবং উত্তাল সংসদ চত্বরের দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে মঙ্গলবার আরও একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। লাদাখ সীমান্ত ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল। উত্তপ্ত বাদানুবাদ থেকে শুরু করে অধ্যক্ষের দিকে কাগজের টুকরো ছোঁড়া— কোনো কিছুই বাদ রইল না এদিন। এই বিশৃঙ্খল আচরণের জেরে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হলো ৮ জন কংগ্রেস সাংসদকে।

অধিবেশনের শুরু থেকেই রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’-র কিছু চাঞ্চল্যকর অংশ লোকসভায় পাঠ করার দাবিতে অনড় ছিলেন। বিশেষ করে ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সংঘাতের সময় মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। গত সোমবারও এই নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। যদিও অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনুমতি ছাড়া কোনো অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ পাঠ করা যায় না। রাহুল গান্ধী এদিন দাবি করেন, তিনি বইটি ‘অথেন্টিকেট’ বা সই করে জমা দিয়েছেন, তাই পাঠে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস সাংসদরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিরোধী সাংসদরা অধ্যক্ষের চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজের টুকরো ছুঁড়তে শুরু করেন। এরপরেই হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মাণিকম ঠাকুর সহ মোট ৮ জন কংগ্রেস সাংসদকে চলতি অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরাও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানান।

সংসদের বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছেন। রাহুল প্রশ্ন তোলেন, "যে চুক্তি দীর্ঘদিন আটকে ছিল, তা রাতারাতি কীভাবে চূড়ান্ত হয়ে গেল?" তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপে নতি স্বীকার করে দেশের কৃষক ও দুগ্ধচাষীদের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

অন্যদিকে, বিজেপির তরফে অনুরাগ ঠাকুর এই আচরণকে ‘গণতন্ত্রের অপমান’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, নারাভানের বইয়ের নাম করে আসলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অপমান করতে চাইছে কংগ্রেস। বিজেপি সাংসদরা সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।

আগামী বুধবার সংসদের পরিবেশ কেমন থাকে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!