আবহাওয়ার কারণে রুট বদলের অনুরোধের পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জঙ্গলে ভেঙে পড়ল রাঁচি-দিল্লি মেডিক্যাল ফ্লাইট
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচানোর তাগিদে আকাশপথে রওনা দিয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সেই জীবনরক্ষার যাত্রা থেমে গেল ঝাড়খণ্ডের চাতরার গভীর জঙ্গলে। সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি বেসরকারি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চাতরা জেলার কাসারিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ভেঙে পড়ে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল Redbird Airways Pvt Ltd পরিচালিত Beechcraft C90 (VT-AJV) — যা একটি মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন ফ্লাইট হিসেবে রাঁচি-দিল্লি রুটে চলছিল।
বিমানে মোট সাতজন ছিলেন, যার মধ্যে দুইজন ক্রু সদস্যও ছিলেন। রওনা দেওয়ার ২৩ মিনিট পরই বিপর্যয়। বিমানটি সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ অবস্থান ধরা পড়ে বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে।
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী বিমানে ছিলেন: সঞ্জয় কুমার – রোগী, বিবেক বিকাশ ভগত – পাইলট, সাভরাজদীপ সিং – কো-পাইলট, ডাঃ বিকাশ কুমার গুপ্ত – চিকিৎসক, শচীন কুমার মিশ্র – প্যারামেডিক, অর্চনা দেবী – রোগীর আত্মীয়, ধীরু কুমার – রোগীর আত্মীয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে এখন নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিমানে থাকা সাতজনের সকলের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে চাতরা জেলার দুর্গম জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে পুলিশকে খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসক দল। অন্ধকারের মধ্যে তল্লাশি চালাতে ব্যবহার করা হয় ড্রোন ও সার্চলাইট।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে DGCA জানিয়েছে, বিমানটি আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল। ঘটনার তদন্তে নামছে DGCA ও Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB)
একটি জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে রওনা দেওয়া বিমান — শেষ পর্যন্ত নিজেই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী।

