অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের ষষ্ঠবার শিরোপা জয়: বৈভবের তাণ্ডব ও বোলারদের দাপটে কুপোকাত ইংল্যান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক : বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে আবারও প্রমাণ হলো—ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেট কতটা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অপরাজিত থেকে শিরোপা জয়ের এই কীর্তি ভারতীয় যুব ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করল।
ফাইনালের আগে থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল টিম ইন্ডিয়া। টসে জিতে ভারত অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং ইংল্যান্ডকে পাহাড়প্রমাণ চাপের মুখে ফেলে দেওয়া। অধিনায়কের সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দেয় ভারতীয় ব্যাটারদের বিধ্বংসী ইনিংস।
ভারতের ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সী বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। বয়স যে কেবলই সংখ্যা, তা আবারও দেখিয়ে দিলেন তিনি। বৈভব খেললেন এক অবিশ্বাস্য ইনিংস—মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রান। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসে ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে বিস্ময় আর মুগ্ধতার ছাপ ফেলেছে।
বৈভবের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দৃঢ় সঙ্গ দেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। চাপের ম্যাচে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে তিনি ৬২ বলে ৫৩ রান করেন। শেষদিকে কণিষ্ক চৌহানের ঝোড়ো ইনিংস ভারতের স্কোরকে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে। ২৮ বলে ৪৫ রানের এই ক্যামিও ইনিংস ভারতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৪১১ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেয়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ দলগত রান।
৪১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুতে কিছুটা লড়াই দেখালেও ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত আক্রমণের সামনে তারা ধীরে ধীরে ব্যাকফুটে চলে যায়। মিডল অর্ডারে ধাক্কা দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্পিনার আরএস আমব্রিশ। ১০ ওভারে মাত্র ৫২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যা ইংল্যান্ডের রান তোলার গতি একপ্রকার থামিয়ে দেয়।
পেসার দীপেশ দেবেন্দ্রন নতুন বলে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন। ৭ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন তিনি। অলরাউন্ডার কণিষ্ক চৌহান ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর বল হাতেও কার্যকর প্রমাণিত হন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে কালেব ফ্যালকনোর ১১৫ রানের লড়াকু ইনিংস ছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ দেখা যায়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় ইংল্যান্ডের ইনিংস ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানেই শেষ হয়ে যায়। ফলাফল—ভারতের ১০০ রানের বিশাল জয়।
ফাইনালে ঐতিহাসিক ১৭৫ রানের ইনিংস এবং গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য বৈভব সূর্যবংশী একযোগে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ ও ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। ২০০০, ২০০৮, ২০১২, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—মোট ছয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব এখন ভারতের ঝুলিতে।
বিসিসিআই (BCCI) নেতৃত্ব ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য পুরো দল ও সাপোর্ট স্টাফদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়েছে। এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি নয়—এটি বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের শক্তিশালী পাইপলাইন ও আগামী দিনের তারকাদের স্পষ্ট বার্তা।

