৭ আধিকারিককে সাসপেন্ডের নির্দেশ কমিশনের
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:আবারও নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলল। এবার সাতজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, ক্যানিং পূর্বের দুই AERO, সুতি বিধানসভার এক AERO, ময়নাগুড়ির এক AERO, ফরাক্কার এক AERO, সামশেরগঞ্জের এক AERO এবং ডেবরার এক AERO—মোট সাতজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মে রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের CEO দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, SIR-এর কাজে গাফিলতি, অসঙ্গতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1950)-এর ১৩CC ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনওরকম বিলম্ব না করে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই নির্দেশের ফলে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে চারজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশও দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ERO ও AERO-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ভোটার তালিকায় ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ নাম বেআইনিভাবে অন্তর্ভুক্ত করার।
ওই চার আধিকারিক হলেন—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস।এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে FIR দাখিলে বিলম্ব হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলবও করা হয়েছিল।এর মধ্যেই ফর্ম ৭ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
রবিবার জানানো হয়েছে—সোমবারের মধ্যেই রাজ্যের CEO দপ্তর ও জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) দফতরে জমা পড়া সমস্ত Form 7 সংশ্লিষ্ট ERO/AERO-দের কাছে পাঠিয়ে নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে হবে।
এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে।
এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।

