রাতভর নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি—দিল্লির রাস্তায় অরক্ষিত গর্তে পড়ে মৃত্যু ২৫ বছরের যুবকের

NEWS INDIA বাংলা
0

 রাতভর নিখোঁজ, ভোরে মিলল নিথর দেহ—দিল্লির রাস্তায় ১৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু তরুণের

দিল্লির জনকপুরী এলাকায় রাস্তার পাশে অরক্ষিত গভীর গর্ত, যেখানে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদন,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:অফিস থেকে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না ২৫ বছরের কমল ধিয়ানির। দিল্লির জনকপুরীতে মাঝরাস্তায় ওত পেতে ছিল মৃত্যু। দিল্লি জল বোর্ডের খোঁড়া ১৫ ফুট গভীর একটি অরক্ষিত গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তাঁর। শুক্রবার সকালে রাস্তার ধারের ওই গর্ত থেকেই উদ্ধার হয় যুবকের নিথর দেহ ও তাঁর বাইক। ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিণীর অফিস থেকে কাজ সেরে সন্ধ্যার পর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন কৈলাশপুরীর বাসিন্দা কমল। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবার। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত রাত ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ জনকপুরী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।

রাতভর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে জনকপুরী, সাগরপুর ও বিকাশপুরী এলাকা চষে বেড়ালেও অন্ধকারে কোনও সূত্র মেলেনি। ভোরের দিকে তল্লাশি চলছিলই, এমন সময় সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ এক পথচারী মহিলার ফোন আসে থানায়। তিনি জানান, রাস্তার ধারের একটি গভীর গর্তে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, ১৫ ফুট গভীর গর্তের মধ্যে পড়ে রয়েছে কমলের বাইক ও তাঁর নিথর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পরিবার। তাঁদের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। কারও গাফিলতি নয়, পরিকল্পিত অবহেলার ফলেই প্রাণ গেল তরতাজা যুবকের। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে গর্তটি দেখতে না পেয়ে বাইকসহ নীচে পড়ে যান কমল।

স্থানীয় কাউন্সিলর ও আম আদমি পার্টির নেতা রমিন্দর কউর বলেন,

“গত আট মাস ধরে এখানে জল বোর্ডের কাজ চলছে। অথচ কোনও ব্যারিকেড, লাল আলো বা সতর্কতামূলক সাইন ছিল না। PWD ও জল বোর্ডের চরম গাফিলতিতেই এই মৃত্যু।”

প্রবল চাপের মুখে দিল্লি জল বোর্ড তিন জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে। দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জল বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্যস্ত রাজধানীর রাস্তায় মাসের পর মাস ধরে খোঁড়া রাখা এমন গভীর গর্ত কেন অরক্ষিত ছিল? একটি প্রাণের মূল্য কি এতটাই তুচ্ছ?

এই ঘটনা অনেককেই মনে করিয়ে দিয়েছে গত মাসে গ্রেটার নয়ডায় একই রকম গাফিলতিতে যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর কথা। দিল্লির রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল কমল ধিয়ানির মর্মান্তিক মৃত্যু।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!