নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক :ভোট মানেই বাংলায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ আর অশান্তির আশঙ্কা—এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই এবারে আগেভাগেই নিরাপত্তা বলয় শক্ত করতে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১ মার্চ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী পাঠানো হবে বাংলায়। ভোট ঘোষণার আগেই বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। মূল লক্ষ্য—সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে আগে থেকেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রথম দফা: ১ মার্চের মধ্যেই ২৪০ কোম্পানি
প্রথম পর্যায়ে ১ মার্চের মধ্যেই রাজ্যে পৌঁছবে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে থাকবে—১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ,৫৫ কোম্পানি বিএসএফ,২১ কোম্পানি সিআইএসএফ,২৭ কোম্পানি আইটিবিপি,২৭ কোম্পানি এসএসবি। এই বাহিনী মূলত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে রুট মার্চ, এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ করবে।
দ্বিতীয় দফা: ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছবে আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। এই তালিকায় থাকছে—১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি আইটিবিপি, ১৯ কোম্পানি এসএসবি। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে বাহিনী মোতায়েন করা হবে মূলত সেইসব জেলায় যেখানে অতীতে ভোটকে ঘিরে একাধিকবার হিংসার ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের পর্যালোচনায় বিশেষ নজরে রয়েছে ৭টি জেলা—কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর , উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ , মুর্শিদাবাদ , বীরভূম । গত নির্বাচনে এই জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল বলেই দাবি কমিশনের।
কোথায় কত কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা নির্ধারণ করতে শীঘ্রই নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
তবে আগেভাগে মোতায়েন—বার্তা কী?
ভোট ঘোষণার আগেই বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট— এবারে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কমিশন । সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই মূল লক্ষ্য। নির্বাচন যত এগোবে, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে—সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

