প্রায় ২০০০ বাসিন্দার কাছে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ, অভিযোগকারীর পরিচয় ঘিরে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে আচমকা নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো নোটিশ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় প্রায় দু’হাজার মানুষের কাছে ‘SIR শুনানি’র জন্য নোটিশ পৌঁছেছে, যেখানে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— “নন ইন্ডিয়ান সিটিজেন”।
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে নোটিশের বিষয়বস্তুর থেকেও বড় প্রশ্ন উঠছে অভিযোগকারীর পরিচয় নিয়ে। নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারীর পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, এই ক্ষেত্রে ঠিকানার জায়গায় শুধুমাত্র “ওয়েস্ট বেঙ্গল” লেখা রয়েছে। ফলে অভিযোগের বৈধতা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
নোটিশ পাওয়ার পর বহু বাসিন্দা নির্ধারিত শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন। নথিপত্র যাচাই শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক রং নিতে শুরু করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়ার তৃণমূল সহ সভাপতি সুশোভন চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি পৌঁছান সিপিআইএম নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ও। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
সিপিআইএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ—বিজেপি ও তৃণমূল মিলে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। পরে সেই আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান,“এই ঘটনায় বামেদের বদনাম করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ও সিপিআইএম যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ছাড়া অভিযোগকারীর ভিত্তিতে নোটিশ জারি হলো কীভাবে? অভিযোগকারীরা কারা? নির্বাচন কমিশন কি এই তথাকথিত “ভূতুড়ে অভিযোগকারী”দের খুঁজে বের করতে পারবে?

