নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডডেস্ক : বসন্তের শুরুতেই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার দোলাচলে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ। হিমালয় সংলগ্ন উত্তরাঞ্চলে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলছে, অন্যদিকে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে তৈরি হয়েছে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের দুই প্রান্তেই আবহাওয়ার মেজাজ থাকবে পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত।
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি রয়েছে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে।
এই পরিস্থিতির জেরে বিকেলের দিকে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে—বিশেষত পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়—হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে, যা সাময়িকভাবে গরম কমাতে পারে। তবে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় বৃষ্টির পর অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরও সক্রিয়। একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উঁচু পার্বত্য এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মালদহ ও দুই দিনাজপুরে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও ভোরের দিকে কুয়াশা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জলীয় বাষ্পের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার শীতল হাওয়া ও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ আর্দ্র বাতাসের সংঘাতে তৈরি হচ্ছে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ফলে বসন্তের স্বাভাবিক আবহাওয়া ব্যাহত হয়ে খামখেয়ালি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে কৃষিক্ষেত্রেও। বিশেষ করে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সর্ষে ও অন্যান্য রবি শস্যেও ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষি দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আপাতত সার বা কীটনাশক প্রয়োগ স্থগিত রাখা উচিত।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দিনের বেলা গরম ও সন্ধ্যায় বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার ওঠানামা ভাইরাল জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত জলপান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে পারে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও দিনের তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রির মধ্যেই থাকবে।
অর্থাৎ, বসন্তের শুরুতেই গ্রীষ্মের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

