বিদায়বেলায় শীতের লুকোচুরি, বসন্তের শুরুতেই গরমের ইঙ্গিত বঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যত বিদায় নিচ্ছে শীত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, কনকনে ঠান্ডার বদলে এখন রাজ্যজুড়ে বাড়ছে উষ্ণতার প্রভাব। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পারদের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তুরে হাওয়ার দাপট কমে গিয়ে বঙ্গোপসাগরীয় জলীয় বাষ্পের প্রভাব বাড়ায় আবহাওয়ার চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই আকস্মিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। বিশেষ করে আমচাষিদের জন্য এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। মুকুল আসার সময় তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রবি শস্য—বিশেষত আলু ও গমের ক্ষেতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সকালে ঠান্ডা এবং দুপুরে গরম—এই বিপরীত আবহাওয়ার কারণে সর্দি-কাশি ও ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত জল পান ও খাদ্যাভ্যাসে সংযম বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দিঘা ও মন্দারমণিতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও দুপুরের রোদে অস্বস্তি বাড়ছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে শীতের রেশ থাকলেও রোদের তেজ বেড়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী ৪–৫ দিনে তাপমাত্রা আরও ২–৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবে মার্চের শুরুতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
লেপ-কম্বল গুটিয়ে রাখার সময় এসে গেছে। বসন্তের আগমনের সঙ্গে গরমের আগাম ইঙ্গিত মিলছে বাংলায়।

