নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: বাংলার রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। শিলিগুড়ি–বারাণসী হাই স্পিড করিডরে বাংলার প্রথম বুলেট ট্রেন চালুর কথা সোমবার স্পষ্ট করে জানালেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের সময়েই যে সাতটি হাই স্পিড রেল করিডরের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেই উঠে আসে এই শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর।
রেলমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হবে শিলিগুড়ি থেকে। এই হাই স্পিড ট্রেনটি বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে। ভবিষ্যতে এই করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে।
চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই বিনিয়োগ। পাশাপাশি, নতুন ফ্রেট করিডরের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত একটি পণ্য পরিবহণ করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব, যা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড় ও মহারাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে যাবে।
কলকাতার মেট্রো প্রকল্প নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী। চিংড়িঘাটা এলাকায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে ‘অরেঞ্জ লাইন’-এর কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা মিলছে না। রেলমন্ত্রীর কথায়, ২০১৪ সালের আগে যেখানে ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রো ২৭ কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়েছিল, সেখানে গত ১১ বছরে তা বেড়েছে ৪৫ কিলোমিটার।
২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রেল মন্ত্রকের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০.৮ শতাংশ বেশি। মোট ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা, যা রেলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিপুল বরাদ্দে বাংলার ভাগে কী এল, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

