নিজস্ব প্রতিবেদন,জলপাইগুড়ি: বাংলার আবাস যোজনা (Banglar Awas Yojana) প্রকল্পে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠল বিজেপি পরিচালিত বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সিপিএম ও তৃণমূল সমর্থকদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে আবাস তালিকা থেকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের সীমান্তবর্তী বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে। একসময় এই অঞ্চল বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ২৭ সদস্যের পঞ্চায়েতে বিজেপির ১৫, তৃণমূলের ১১ এবং সিপিএমের ১ জন সদস্য রয়েছেন।
বাসুয়া পাড়ার বাসিন্দা শাকালু মহম্মদের অভিযোগ, বহুবার আবেদন করেও ঘর পাননি। তার স্ত্রী মূক ও বধির, পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীন। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারানো শাকালু বর্তমানে সরকারি ভাতা ও প্রতিবেশীদের সহায়তার উপর নির্ভরশীল। তার বসবাস দুটি জরাজীর্ণ বেড়ার ঘরে।
প্রতিবেশী বাপ্পা মহম্মদের দাবি, “যোগ্য হয়েও ঘর পাচ্ছেন না এরা। আমাদের বুথ সিপিএমের হওয়াতেই এই বঞ্চনা।”
স্থানীয় বাসিন্দা লাইলি বেগম জানান, পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। মাত্র একটি বৃদ্ধ ভাতা ছাড়া তাদের আর কোনও স্থায়ী আয়ের উৎস নেই।
আজিজা বেওয়ার অভিযোগ, দীর্ঘ ৫০ বছর দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি আবাস যোজনার সুবিধা পাননি।
সিপিএম নেতা জামিনার আলীর দাবি, “যোগ্য প্রাপকদের নাম রাজনৈতিক কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।”
তৃণমূল নেতা পল হাসান প্রধানের বক্তব্য, বিজেপির দুর্নীতির অভিযোগ এখানেই প্রমাণিত হচ্ছে।
অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধান অমিত দাস সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “আবেদন, যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ঘর বরাদ্দ হয়। রাজনৈতিক অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

