নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: আবারও বাংলার মাটিতে পা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে এবারের সফরে রাজনৈতিক পরিচয়কে একপ্রকার পাশ কাটিয়ে নিজেকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবেই তুলে ধরলেন তিনি।
বছরের শুরুতেই বঙ্গ সফরে এসে বুধবার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে মায়াপুর ইসকনের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন অমিত শাহ। তার এই সফরকে ঘিরে ভক্তমহল ও প্রশাসনিক স্তরে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। মায়াপুরে পৌঁছেই ইসকনের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মানে সংবর্ধিত করা হয়।
এরপর সেখান থেকে গাড়িযোগে তিনি পৌঁছান চন্দ্রোদয় মন্দিরে। সেখানে শ্রীল প্রভুপাদ, নৃসিংহদেব, রাধা-মাধব এবং পঞ্চতত্ত্ব বিগ্রহের উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গণে কিছু সময় অতিবাহিত করে সরাসরি যোগ দেন শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১৫২তম জন্মতিথি উদযাপন অনুষ্ঠানে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বক্তব্য শুরু করেন ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি দিয়ে। তার এই সম্ভাষণে মায়াপুরের ইসকন মন্দির চত্বরে এক অনন্য ভক্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত ভক্ত ও দর্শকদের মধ্যে করতালির ঢেউ ওঠে।
তার ভাষণে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ, ভক্তি আন্দোলনের বিশ্বব্যাপী বিস্তার এবং শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতীর আধ্যাত্মিক অবদান নিয়ে বিশদভাবে আলোকপাত করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর কার্যক্রম ও সমাজে তাদের আধ্যাত্মিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন।
তবে এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল অমিত শাহের ব্যক্তিগত পরিচয়ের উপস্থাপন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবেই তুলে ধরেন। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
"আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং মহাপ্রভুর একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে উপস্থিত হয়েছি।"
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মায়াপুরে আসার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই আক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন—
"অনেকবার মায়াপুরে আসার সুযোগ এলেও কোনো না কোনো কারণে তা হয়ে ওঠেনি। আজ মহাপ্রভুর এই পুণ্যভূমিতে পা রাখতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য ও কৃতজ্ঞ মনে করছি।"
তার এই বক্তব্য ভক্তদের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলে। উপস্থিত ভক্তবৃন্দ ও সাধুসন্তরা তাকে স্বাগত জানান এবং তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও আধ্যাত্মিক পরিসরে তার এই উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরে গিয়ে ধর্মীয় আবহে নিজেকে উপস্থাপন করা তার সফরকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
মায়াপুরে অমিত শাহের এই সফর শুধু প্রশাসনিক বা প্রোটোকল সফর নয়, বরং ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগের একটি প্রকাশ হিসেবেই উঠে এসেছে।

