নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:শীতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আজ পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া মোটের উপর শান্ত ও সহনীয় থাকছে। রাজ্যের বেশিরভাগ জেলাতেই সকাল শুরু হয়েছে হালকা ঠান্ডা ও কিছুটা ধোঁয়াশা নিয়ে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কুয়াশার রেশ কাটতে শুরু করে আকাশ পরিষ্কার হয়ে উঠবে এবং রোদের তেজ ধীরে ধীরে অনুভূত হবে।
কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় আজ সকালের দিকে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও তা খুব বেশি কড়া নয়। ভোরের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অনেকেই শাল বা হালকা সোয়েটার ব্যবহার করেছেন। তবে সকাল গড়াতেই ঠান্ডার তীব্রতা কমে যায় এবং দুপুরের দিকে রোদে শীতের বদলে হালকা উষ্ণতা বেশি টের পাওয়া যায়।
আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাঝারি শীতের পর্যায়ে থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি থাকতে পারে। ফলে সকাল ও রাতের আবহাওয়ার সঙ্গে দিনের আবহাওয়ার পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। সকালে বেরোনোর সময় হালকা গরম পোশাক প্রয়োজন হলেও দুপুরে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আকাশ বেশিরভাগ সময় পরিষ্কার বা হালকা মেঘলা থাকবে। জলাজমি সংলগ্ন এলাকায় সকালে সামান্য ধোঁয়াশা দেখা গেলেও সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাবে।
উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় সকালের দিকে ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলকভাবে একটু বেশি অনুভূত হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘন হতে পারে। তবে বেলা বাড়লে এখানেও আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পাহাড়ে যাতায়াতকারীদের সকালবেলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আজ বাতাসের গতি সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি থাকবে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ মাঝামাঝি থাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় ধোঁয়াশার অনুভূতি থাকতে পারে। শহরের ব্যস্ত এলাকায় দূষণের সঙ্গে এই ধোঁয়াশা মিলেমিশে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে।
চাষিদের ক্ষেত্রেও আজকের আবহাওয়া মোটের উপর অনুকূল। বৃষ্টি না থাকায় মাঠের কাজে বড় কোনও বাধা নেই। তবে ভোরের দিকে জমিতে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকায় শাকসবজি চাষে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আজকের আবহাওয়া সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য বেশ সহায়ক। শীতের বিদায়ী পর্বে দাঁড়িয়ে আবহাওয়া না খুব ঠান্ডা, না খুব গরম—এক কথায় সহনীয়।

