AI-র তৈরি ভুয়ো ছবিতে বাঘ আতঙ্ক, গুজবে ঘুম উড়ল গোবরডাঙ্গাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই আতঙ্কের সূত্র একটি গুজব। দাবি করা হয়, বন দফতরের একটি গাড়িতে করে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা সে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। কে দেখেছে, কোথায় দেখেছে—সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর কারও কাছেই নেই। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ছবি। ছবিতে দেখা যায়, কুলপুকুর এলাকার একটি রাস্তার মাঝখানে বসে রয়েছে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সেই ছবি দেখেই অনেকেই ধরে নেন—এবার বুঝি সত্যিই প্রমাণ মিলল। আতঙ্ক আরও তীব্র হয়। বহু অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন শিশু থেকে বয়স্ক—সবাই।
এক দোকানদার বলেন,
“বাঘের কথা শুনলে কে আর ঝুঁকি নেবে? তাই সন্ধ্যা হলেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি।”
এক অভিভাবকের কথায়,
“ছবিটা দেখে বিশ্বাসই হয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাদের নিয়ে কী করে নিশ্চিন্ত থাকব?”
তবে আতঙ্কের মধ্যেই বাস্তবতা সামনে আনে প্রশাসন। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এলাকায় কোনও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঘোরার ঘটনা ঘটেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি (AI) দিয়ে তৈরি।
এক প্রশাসনিক কর্তা জানান,
“ভাইরাল হওয়া ছবির সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। মানুষ যেন গুজবে কান না দেন এবং যাচাই না করে কোনও ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করেন।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। গ্রামে গ্রামে প্রচার চালিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে—বাঘ নেই, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। একই সঙ্গে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট—AI-র যুগে একটি ভুয়ো ছবি মুহূর্তে গোটা এলাকার স্বাভাবিক জীবনকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।
সত্য যাচাই না করে বিশ্বাস করাই এখন সবচেয়ে বড় বিপদ।

