নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক : আজ ১২ জানুয়ারি। ভারতীয় ইতিহাসের এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহান দার্শনিক, যুগাবতার এবং যুবসমাজের চিরন্তন প্রেরণা স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী। দিনটি 'জাতীয় যুব দিবস' হিসেবেও সমধিক পরিচিত, যার মূল লক্ষ্য হলো স্বামীজীর জীবন ও দর্শনকে পাথেয় করে আধুনিক যুবসমাজকে দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
১৮৬৩ সালের আজকের দিনের এই পুণ্য তিথিতে বর্তমান কলকাতার সিমলা স্ট্রিটের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত। শৈশব থেকেই তীক্ষ্ণ মেধা এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধিৎসা তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। পরবর্তীকালে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সান্নিধ্যে এসে তিনি রূপান্তরিত হন বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ রূপে।
বিশ্বমঞ্চে বিবেকানন্দের জীবনের অন্যতম মাইলফলক হলো ১৮৯৩ সালের শিকাগো বিশ্ব ধর্ম সম্মেলন। সেখানে তাঁর সেই কালজয়ী সম্বোধন— "আমেরিকার ভাই ও বোনেরা"— আজও বিশ্ববাসীর কানে প্রতিধ্বনিত হয়। সেই ভাষণে তিনি হিন্দুধর্মের সহিষ্ণুতা ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার কথা এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন যে, পাশ্চাত্য জগত ভারতের আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ধর্ম কেবল আচার-সর্বস্ব নয়, বরং মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত দেবত্বকে জাগিয়ে তোলাই ধর্মের আসল উদ্দেশ্য। আমেরিকার সংবাদপত্রগুলো তাঁকে 'সাইক্লোনিক হিন্দু' (The Cyclonic Hindu) হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ তার যুবশক্তির ওপর নির্ভরশীল। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক যুবসমাজ, যাদের "লোহার মতো পেশি এবং ইস্পাতের মতো স্নায়ু" থাকবে। তাঁর সেই অমর বাণী— “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত” (উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না)— আজও কোটি কোটি মানুষের কর্মতৎপরতার মন্ত্র। তিনি যুবকদের চরিত্রবান, আত্মনির্ভর ও সাহসী হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বামীজীর আদর্শ নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
নিউজ ইন্ডিয়া মনে করে, স্বামী বিবেকানন্দ কেবল ইতিহাসের কোনো চরিত্র নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরন্তর পথপ্রদর্শক। তাঁর দেখানো মানবসেবা ও দেশপ্রেমের পথেই লুকিয়ে আছে ভারতের প্রকৃত উন্নতি। স্বামীজীর সেই ছোট অথচ অমোঘ মন্ত্রটিই হোক আজকের দিনে আমাদের পাথেয়:"নিজেকে দুর্বল মনে করাই হলো সবচেয়ে বড় পাপ।"


