বিধানসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে, অব্যাহতি চেয়ে কমিশনকে চিঠি রাজ্যের

NEWS INDIA বাংলা
0

 নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট নয়জন আইএএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষক নিয়োগে সংঘাত কেন্দ্র বনাম রাজ্য
পর্যবেক্ষক নিয়োগে সংঘাতকেন্দ্র বনাম রাজ্য

উল্লেখ্য, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের একাধিক আধিকারিককে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন। এই রাজ্যগুলির সঙ্গে একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা অনুযায়ী এই নিয়োগ করা হলেও, রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে তা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিব জে পি মীনা, সংখ্যালঘু বিষয়ক সচিব পি বি সেলিম এবং পঞ্চায়েত সচিব পি উল্গানাথনের মতো শীর্ষ আধিকারিকদের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো নিয়ে আপত্তি তুলেছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্বাচনপূর্ব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আধিকারিকদের রাজ্যের বাইরে পাঠানো হলে প্রশাসনিক কাজ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিশন এলোমেলোভাবে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে। স্বরাষ্ট্রসচিব বাইরে গেলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সামলাবে কে—সেই প্রশ্ন উঠছে।”

তবে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং ওই সময় কোনও প্রকল্পগত কাজও কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মত তাঁদের।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো যেতে পারে এমন আধিকারিকদের তালিকা বারবার চাওয়া হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অন্তত তিনবার নবান্নকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি কমিশনের। সাড়া না পাওয়াতেই রাজ্য ক্যাডার থেকে অফিসার বেছে নিতে বাধ্য হয় কমিশন।

চাপের মুখে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, অব্যাহতি চাওয়া নয়জন আধিকারিকের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে আরও নয়জন অফিসারের নাম তারা পাঠাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, চার রাজ্যের নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এই আধিকারিকদের আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে একটি ব্রিফিং বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বৈঠকে হাজির না হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

এদিকে দুই আইপিএস অফিসার—ভারত লাল মীনা ও হৃষিকেশ মীনা ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের পাঠানো বিকল্প নামের তালিকা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!