নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ: উপসর্গ, সংক্রমণ ও প্রতিরোধে কী বলছেন চিকিৎসকেরা

NEWS INDIA বাংলা
0

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া:নিপা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ অত্যন্ত মারাত্মক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি। উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সচেতনতা ও প্রতিরোধই এই রোগ মোকাবিলার একমাত্র উপায় বলে মত চিকিৎসকদের।

প্রতীকী চিত্র (AI-generated)
 স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবে দূষিত ফল, খেজুরের রস বা তালের রস গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়াও সংক্রমিত ব্যক্তি বা শুয়োরের সংস্পর্শে এলে মানবদেহে এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

কী কী উপসর্গ দেখা যায়নি : পা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে সাধারণ জ্বর বা ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, গা ও পেশিতে ব্যথা, মাথা ঘোরা, ডায়রিয়া, বমি বা বমি বমি ভাব।পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অচেতন হয়ে পড়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত করা হয় নিপা সংক্রমণ: চিকিৎসকরা একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করেন। রোগীর গলার সোয়াব, রক্ত, প্রস্রাব কিংবা সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই নমুনাগুলিতে রিয়েল টাইম পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন (RT-PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

শরীরে কী প্রভাব ফেলে এই ভাইরাস : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাস খাদ্যনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার পর শুধু অন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ফুসফুস, মস্তিষ্ক এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি : নিপা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থেকে যেতে পারে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, অনেকের মধ্যেই বারবার খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই কারণেই নিপা ভাইরাসকে শুধু তাৎক্ষণিক সংক্রমণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

প্রতিরোধই একমাত্র পথ যেহেতু এখনও পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের কোনও ভ্যাকসিন নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আধখাওয়া ফল ও সবজি এড়িয়ে চলা, কাঁচা খেজুরের রস বা তালের রস পান না করা, ফল ও সবজি ভালো করে ধুয়ে খাওয়া এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের সময় বাদুড়, শুয়োর ও অন্যান্য বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!