নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া: কেউ ক্যান্সারের যন্ত্রণায় রাতের পর রাত জেগে কাটাচ্ছেন। কারও শরীর আর সায় দেয় না—ভরসা বলতে শুধু একটি লাঠি। কারও স্বামী ঘরের এক কোণে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, অথচ সেই লড়াই জারি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধটুকুও কেনার ক্ষমতা নেই। আজ তাঁদের কাছে দারিদ্র্য শুধু অর্থের অভাব নয়—এ এক নীরব মৃত্যুভয়।
![]() |
| নিজস্ব চিত্র |
যাঁরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সবজি বিক্রি করেছেন, ভ্যান চালিয়ে দিন এনেছেন দিন—তিলে তিলে জমিয়েছিলেন কয়েক হাজার টাকা। সেই টাকা ছিল তাঁদের ভবিষ্যৎ, শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসা। সেই সঞ্চয়ই আজ নেই।
নদীয়া জেলার পাঁচবাড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে রাখা ছিল তাঁদের সেই রক্ত–ঘামের টাকা—চিকিৎসার জন্য, বাঁচার জন্য, একটু নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর জন্য। আজ সেই ভরসার জায়গাটাই শূন্য।
অভিযোগ—প্রায় ৪ কোটি টাকার দুর্নীতি। আর তার জেরেই সর্বস্বান্ত কয়েকশো পরিবার। আজ কারও হাতে লাঠি, কারও কোলে ক্ষুধায় কাঁদতে থাকা শিশু। কেউ সকাল থেকে একফোঁটা জল পর্যন্ত না খেয়ে বসে আছেন সমিতির গেটের সামনে। চোখে জল জমে শুকিয়ে গেছে, গলায় কাঁপুনি—তবু প্রশ্নটা থামে না,
“আমরা কি আমাদের টাকাটা আর কোনোদিন পাব?”
দুই বছর ধরে ঘুরেছেন অফিসের পর অফিস, দরজার পর দরজা। কখনও বলা হয়েছে “আগামী মাসে”, কখনও “ফাইল চলছে”—কিন্তু টাকা ফেরেনি। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন তুললে সমিতির ম্যানেজার দুলাল দত্ত ক্যামেরার সামনে নীরব। সেই নীরবতাই যেন আজ এই মানুষগুলোর কান্নাকে আরও ভারী করে তুলছে।
অসুখে ভাঙা শরীর, ক্ষুধায় কাঁপা পেট, আর বুকভরা অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিদিন তাঁরা অপেক্ষা করছেন—কবে ফিরবে তাঁদের নিজের টাকা, কবে শেষ হবে এই অবহেলার শাস্তি।
এ যেন শুধু অর্থ হারানোর গল্প নয়—এ গল্প ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের, চিকিৎসাহীন মৃত্যুর আশঙ্কার, আর সমাজের এক কোণে পড়ে থাকা মানুষের নীরব আর্তনাদের।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই কান্না কি আদৌ কারও কানে পৌঁছবে? নাকি এই অপেক্ষাই হয়ে উঠবে তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায়?

