লাল ঝামেলা বস্তি: নাগরাকাটার কাছে ভারত–ভুটান সীমান্তে লুকিয়ে থাকা এক অফবিট পর্যটন স্বর্গ

NEWS INDIA বাংলা
0
 নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া বাংলা: সপ্তাহান্তের ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চাইলে পর্যটকদের নতুন পছন্দ হয়ে উঠছে লাল ঝামেলা বস্তি। নাগরাকাটা ব্লকের চ্যাংমারি চা বাগানের পাশেই, ভারত–ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রামটি ধীরে ধীরে একটি অফবিট পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
 নিজস্ব চিত্র: লাল ঝামেলা বস্তি 
চারপাশ জুড়ে সবুজ চা বাগান, দূরে ভুটানের পাহাড়ের সারি আর মাঝখান দিয়ে কুলুকুলু শব্দে বয়ে চলা ডায়না নদী—এই প্রাকৃতিক মেলবন্ধন লাল ঝামেলা বস্তিকে করে তুলেছে একেবারেই আলাদা। এখানে এলে শহরের ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল মুহূর্তের মধ্যেই ভুলে যাওয়া যায়। ভোরের পাখির ডাক কিংবা বিকেলের নরম আলোয় পাহাড়ের রঙ বদলের দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায় সহজেই।

নাম শুনে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ‘লাল ঝামেলা বস্তি’ হলেও এখানে নেই কোনো ঝামেলা বা ঘিঞ্জি পরিবেশ। বরং গ্রামটি শান্ত, পরিচ্ছন্ন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। প্রায় ৫০০টি পরিবার এখানে বসবাস করেন, যাঁরা মূলত চা বাগান ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে যুক্ত।

লাল ঝামেলা বস্তি

স্থানীয়দের মতে, লাল ঝামেলা বস্তির নামকরণের পিছনেও রয়েছে ইতিহাস। লোককথা অনুযায়ী, চা বাগানের দুই আদিবাসী শ্রমিক নেতা—লাল শুকরা ওরাও এবং ঝামেলা সিং-এর নাম থেকেই এই এলাকার নামকরণ।

অল্প খরচে পিকনিক কিংবা স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য এই জায়গাটি আদর্শ। পর্যটকেরা চাইলে ডায়না নদীর ধারে সময় কাটাতে পারেন, চা বাগানের মধ্যে হাঁটতে পারেন কিংবা দূরের ভুটান পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

যাতায়াতের দিক থেকেও লাল ঝামেলা বস্তি বেশ সুবিধাজনক। ট্রেনে নিউ মল জংশন পর্যন্ত এসে সেখান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ গাড়ি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে। স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে প্রকৃতির মাঝে দু’দণ্ড শান্তি খুঁজে পেতে লাল ঝামেলা বস্তি এখন পর্যটকদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!