প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় বিস্ফোরণ, গুরুতর আহত জওয়ানদের এয়ারলিফ্ট করে রায়পুরে পাঠানো হয়েছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ ইন্ডিয়া: প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের রাতে ছত্তিসগড়ের বিজাপুরে একের পর এক IED বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় চালানো তল্লাশি অভিযানের সময় পুঁতে রাখা IED বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিরাপত্তা রক্ষী জখম হয়েছেন। আহতদের দ্রুত এয়ারলিফ্ট করে রায়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বিজাপুর জেলার উসুর থানার পশ্চিমে কারেগুট্টা পাহাড়ি এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির একটি ব্যাটেলিয়ন ওই জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে—এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি), কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী ও কোবরা ব্যাটেলিয়নের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে।
রবিবার অভিযানের সময় হঠাৎ একের পর এক মোট ছয়টি IED বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছিটকে পড়েন। এতে ডিআরজি-র ১০ জন জওয়ান এবং কোবরা বাহিনীর একজন সাব-ইন্সপেক্টর গুরুতর জখম হন। আহত কোবরা অফিসারের নাম জিডি রুদ্রেশ সিং। তিনি সিআরপিএফ-এর ২০১ ব্যাটেলিয়নের সাব-ইন্সপেক্টর বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে তিনজন জওয়ানের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং আরও তিনজনের চোখে চোট এসেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে রায়পুরের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাওবাদীরাই আগেভাগে এই IED গুলি পুঁতে রেখেছিল। যদিও এই বিস্ফোরণের পিছনে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা ব্যাটেলিয়নের হাত রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় অন্তত ১০০ জন সশস্ত্র মাওবাদী আত্মগোপন করে থাকতে পারে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আশপাশের জঙ্গলে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চলছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে এর আগেও একাধিকবার মাওবাদী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এবারের ঘটনায় ফের একবার মাওবাদী সমস্যার ভয়াবহ দিক সামনে এল বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

