![]() |
| কিউট কার্টুন সরস্বতী প্রতিমা, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন |
নিজস্ব সংবাদদাতা,নিউজ ইন্ডিয়া: সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির কাছে চিরাচরিত এক আবেগ। হাতে বীণা, পায়ের কাছে রাজহাঁস, শান্ত সৌম্য মুখাবয়ব—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সাবেকি রূপেই বিদ্যার দেবীর আরাধনায় অভ্যস্ত বাঙালি। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে রুচি ও অভ্যাস। সেই পরিবর্তনের ছাপই এ বছর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরস্বতী প্রতিমার আদলে।
কার্টুন চরিত্রের ছোঁয়ায় তৈরি ‘কিউট এআই’ ধাঁচের সরস্বতী প্রতিমা এ বছর বাজারে নতুন এক প্রবণতার জন্ম দিয়েছে। সাবেকি কাঠামো বজায় রেখেও দেবীমূর্তির মুখাবয়বে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এই পরিবর্তন নিছক ফ্যাশনের অনুসরণ নয়, বরং সমাজের জীবনযাত্রার বদলের প্রতিফলন।
আজকের ফ্ল্যাট-সংস্কৃতিতে সীমিত জায়গার মধ্যেই পুজো সারতে হয় বহু পরিবারকে। সেই বাস্তবতায় ছোট, দীর্ঘস্থায়ী ও সাজিয়ে রাখার উপযোগী প্রতিমার চাহিদা বাড়াই স্বাভাবিক। এই কিউট কার্টুন সরস্বতী প্রতিমা সেই প্রয়োজনের সঙ্গে নান্দনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
এই প্রবণতার আরেকটি দিক হলো নতুন প্রজন্মের রুচি। শিশুদের কাছে দেবীকে আরও আপন করে তুলতেই যেন এই কার্টুন-ঘরানার রূপ। ধর্মীয় আচার যখন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়, তখন তার ভাষাও বদলাতে বাধ্য। সেই বদল যদি শ্রদ্ধা ও শৈল্পিক ভারসাম্য বজায় রেখেই হয়, তবে তাকে অস্বীকার করার সুযোগ কম।
তবে এখানেই উঠে আসে আরেক বাস্তব প্রশ্ন। চাহিদা বাড়লেও যোগান সীমিত। কারণ এই ধরনের প্রতিমা ছাঁচে নয়, শিল্পীর নিখুঁত হাতের ছোঁয়াতেই তৈরি হয়। সূক্ষ্ম কাজ, সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং দক্ষ কারিগরের অভাব—সব মিলিয়ে বহু অর্ডার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। এর ফলে যেমন দাম বাড়ছে, তেমনই স্পষ্ট হচ্ছে বাংলার মৃৎশিল্পে দক্ষ শিল্পী গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি সংকট।
এ প্রশ্নও উঠছে—এই আধুনিক রূপ কি ঐতিহ্যের ক্ষতি করছে? উত্তর সম্ভবত ‘না’। বরং ইতিহাস বলছে, বাঙালির পুজো বরাবরই সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছে। এক সময় যে প্রতিমা ছিল একান্তই ঘরোয়া, তা পরে মণ্ডপে এল; আজ তা নতুন নান্দনিক ভাষা খুঁজছে। এই বিবর্তনই সংস্কৃতির প্রাণশক্তি।
কিউট কার্টুন বাগদেবী তাই শুধু একটি নতুন ডিজাইন নয়, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক সময়ের প্রতীক। প্রশ্ন একটাই—এই পরিবর্তনের ধারায় শিকড় যেন হারিয়ে না যায়। শিল্প, সংস্কার ও বিশ্বাস—এই তিনের সুষম মেলবন্ধনই সরস্বতী পুজোর ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে।



