আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানাল যুক্তরাজ্য। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘Board of Peace’ শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, চুক্তির কাঠামো ও কিছু অংশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকায় আপাতত এই উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে না তারা।
![]() |
| শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করল না ব্রিটেন। |
যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ‘Board of Peace’ উদ্যোগটি সামনে আনা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন এবং বিশেষ করে গাজা-সহ বিভিন্ন অশান্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাভোস) মঞ্চে এই শান্তি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই বোর্ড ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির কয়েকটি বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনও উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রিটেন আরও জানিয়েছে, তারা শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধী নয়, তবে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মঞ্চের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের পক্ষেই তারা বরাবরের মতো অবস্থান বজায় রাখতে চায়। এই কারণেই ‘Board of Peace’ চুক্তিতে এই মুহূর্তে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুক্তরাজ্যের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় শক্তির এই অবস্থান ভবিষ্যতে চুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং এই শান্তি উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও এই চুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে খবর। অনেক দেশই মনে করছে, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক কাঠামোর বাইরে নতুন শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করার আগে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ‘Board of Peace’ উদ্যোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী দিনে কোন কোন দেশ এই চুক্তিতে যোগ দেয় এবং কারা দূরে থাকে, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।

